আগামীর সময়

ইতিহাসের আলোয় একই পরিবারের তিন রাষ্ট্রনেতা

ইতিহাসের আলোয় একই পরিবারের তিন রাষ্ট্রনেতা

ফাইল ছবি

প্রায় দুই দশক পর নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে জিয়া পরিবার যুক্ত হচ্ছে বিশ্বের সেইসব রাজনৈতিক পরিবারের তালিকায়, যাদের তিন সদস্য কোনো দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার পর এবার বাংলাদেশের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছেন তারেক রহমান।

বাংলাদেশে জিয়া পরিবার


১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন জিয়াউর রহমান। তিনি সেনাপ্রধান হন এবং পরে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব পান। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি এ এস এম সায়েম পদত্যাগ করলে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দলটি ১৯৯১ সালের পর থেকে এবারসহ চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর একাংশের বিদ্রোহে জিয়াউর রহমান নিহত হন।

পরবর্তীতে দলের নেতৃত্বে আসেন তাঁর সহধর্মিণী খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি তিন দফায় সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্বে আসেন তাঁর ছেলে তারেক রহমান। জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে এবার তিনি সরকারপ্রধান হচ্ছেন।

ভারতে নেহরু-গান্ধী পরিবার


১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন জওয়াহেরলাল নেহরু। তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৪ সালের ২৭ মে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হন এবং দুই দফায় দেশ পরিচালনা করেন। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর তিনি আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। সেদিনই তাঁর ছেলে রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি ভারতের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯১ সালের ২১ মে নির্বাচনী প্রচারণায় আত্মঘাতী হামলায় রাজীব গান্ধী নিহত হন।

পাকিস্তানে ভুট্টো-জারদারি পরিবার


পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৯৭১ সালের পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হন। পরে ১৯৭৩ সালে নতুন সংবিধানের অধীনে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৭৯ সালে সামরিক শাসনামলে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁর মেয়ে বেনজির ভুট্টো ১৯৮৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। দুই দফায় সরকারপ্রধান থাকার পর ২০০৭ সালে নির্বাচনী সমাবেশে নিহত হন। তাঁর স্বামী আসিফ আলী জারদারি দুই দফায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শ্রীলঙ্কায় বন্দরনায়েকে পরিবার


এসডব্লিউআরডি বন্দরনায়েকে ১৯৫৬ সালে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৫৯ সালে তিনি আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। তাঁর স্ত্রী শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে ১৯৬০ সালে প্রধানমন্ত্রী হন এবং বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেন। তাঁদের মেয়ে চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট দুই পদেই দায়িত্ব পালন করেন।

থাইল্যান্ডে সিনাওয়াত্রা পরিবার


থাকসিন সিনাওয়াত্রা ২০০১ সালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। তাঁর বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী হন, তবে ২০১৪ সালে আদালতের রায়ে অপসারিত হন। পরবর্তীতে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

উত্তর কোরিয়ায় কিম পরিবার


১৯৪৮ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ায় কিম পরিবার ক্ষমতায় রয়েছে। কিম ইল সাং দেশটির প্রতিষ্ঠাতা নেতা ও প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন ছেলে কিম জং ইল। পরে নাতি কিম জং উন রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব নেন। তিন প্রজন্ম ধরে একই পরিবারের শাসনের বিরল উদাহরণ এটি।

গ্রিস, নিকারাগুয়া ও পেরু


গ্রিসের পাপানড্রেউ পরিবার থেকে তিন প্রজন্মের তিনজন সরকারপ্রধান হয়েছেন। নিকারাগুয়ার সামোজা পরিবার থেকেও তিনজন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। পেরুর প্রাদো পরিবারেও একই ধরনের নজির রয়েছে।

    শেয়ার করুন: