স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ১৯২ আরবান হেলথকেয়ার : মীর শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ফাইল ছবি
দেশের বিভিন্ন নগরে নির্মিত ১৯২টি আরবান প্রাইমারি হেলথকেয়ার সেন্টার স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনে হস্তান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ‘এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত বা আংশিক ব্যবহৃত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে আবার জনগণের সেবায় কার্যকরভাবে নিয়োজিত করা সম্ভব হবে।’
আজ বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানিয়েছেন, একটি প্রকল্পের আওতায় দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন ও ২৩টি পৌরসভায় নির্মাণ করা হয়েছিল এসব আরবান প্রাইমারি হেলথকেয়ার সেন্টার। প্রকল্প চলাকালীন এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে নগর এলাকার বিপুল জনগোষ্ঠী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রই ধীরে ধীরে অচল বা অব্যবহৃত হয়ে পড়ে।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘কোথাও কোথাও জনবল সংকট, কোথাও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি, আবার কোথাও তদারকির অভাবে কাঙ্খিতভাবে পরিচালিত হচ্ছিল না কেন্দ্রগুলো। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে এবং প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হতে থাকে জনগণ।’
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই প্রধানমন্ত্রী একটি কার্যকর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘এতে বিদ্যমান স্থাপনাগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাবে এবং জনগণ সর্বোচ্চ সুবিধা পাবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে।’
হস্তান্তর প্রক্রিয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা ইনভেন্টরি প্রস্তুত করা হবে। এরপর তা সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কেন্দ্রগুলো পরিচালনার পথ সুগম হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে পরিবর্তন আসবে নগর এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী সহজেই তাদের নিকটবর্তী কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা পাবে, ফলে চাপ কমবে বড় হাসপাতালগুলোর।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভা থেকে এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যেই ১৯২টি আরবান প্রাইমারি হেলথকেয়ার সেন্টার স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের কাছে হস্তান্তর সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ভবনগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করতে হবে সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনের কাছে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌরসভাগুলোর ক্ষেত্রে সিইও বা প্রশাসকরা এই হস্তান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সভায় আরও জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪১টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে চট্টগ্রাম সিটিতে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৩০টি, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৫টি, খুলনায় ২৮টি এবং রাজশাহীতে রয়েছে ১৭টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বাকি কেন্দ্রগুলো ছড়িয়ে রয়েছে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায়।



