এইচআরডব্লিউর বিবৃতি
বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে আবারও সামনে এসেছে বাকস্বাধীনতা নিয়ে বড় প্রশ্ন। চারজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
বৃহস্পতিবার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনটি।
সংস্থাটি বলছে, আগের সরকারের মতো সাইবার আইন ব্যবহার করে মানুষকে দমনের প্রবণতা ফিরে আসছে। নতুন সরকারের উচিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং আইনের অপব্যবহার বন্ধ করা।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনটির ভাষ্য, নির্বাচনে জয়লাভ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর আগে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা হারান শেখ হাসিনা। তার আমলে কঠোর আইন ব্যবহার করে কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের।
এইচআরডব্লিউ জানাচ্ছে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও সেই আগের পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হয়নি।
সংস্থার এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলছিলেন, মানুষ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। এখন সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা জরুরি। কয়েক মাসের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কারণে গ্রেপ্তার হওয়া খুবই উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৭ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়েছে এম হাসান নাসিমকে। অভিযোগ, একটি ব্যঙ্গচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন তিনি। সেখানে ছিল একজন আইনপ্রণেতাকে নিয়ে মন্তব্য। রাজধানীর নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়েছে তাকে, করা হয়েছে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা।
এর আগে ৫ এপ্রিল ভোলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন সওদা সুমি। অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমে সরকারবিরোধী মন্তব্য করেছিলেন তিনি। ৩১ মার্চ ময়মনসিংহে গ্রেপ্তার হয়েছেন আজিজুল হক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর একটি বিতর্কিত ছবি শেয়ার করেছিলেন তিনি। ২ এপ্রিল মুন্সিগঞ্জে আটক করা হয়েছে শাওন মাহমুদকে। অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করেছিলেন তিনি।
এ ধরনের গ্রেপ্তার ও মামলার ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে মনে করছে এইচআরডব্লিউ। সাইবার নিরাপত্তা আইন এখনো অনেক জায়গায় অস্পষ্ট। এতে করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অপব্যবহারের সুযোগ থাকে।
সংস্থাটি আরও বলছে, বাংলাদেশের সংবিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক আইনও এই অধিকার দেয়।
তাদের আহ্বান— সংস্কার করতে হবে এ ধরনের আইন, রক্ষা করতে হবে মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার।



