আগামীর সময়

ওসি কোনো মন্ত্রীকে ফোন করবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ওসি কোনো মন্ত্রীকে ফোন করবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

পুলিশ বাহিনীতে থাকতে হবে ‘চেইন অব কমান্ড’, চাইলেই কোনো মন্ত্রীকে ফোন করতে পারবেন না থানার ওসি। বাহিনীর উদ্দেশ্যে এই নির্দেশনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বুধবার দুপুরে মতবিনিময় করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পুলিশ বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে।

বাহিনীর সদস্যদের শৃঙ্খলা মেনে চলার নির্দেশে এসময় তার বক্তব্য, ‘আমি প্রথম দিনেই মন্ত্রণালয়ে যোগদান করার পরে আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে বলেছি যে, চেইন অব কমান্ড থাকতে হবে, প্রতিষ্ঠিত করতে হবে... একজন ওসি সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন করবে... সেটা আমরা এলাও করি নাই।’

‘তবে মন্ত্রী যদি প্রয়োজন মনে করে যে কোনো লেভেলে যোগাযোগ করার, সেটা করবে; কিন্তু চেইন অব কমান্ড ব্রেক করে যেন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা তার উপরস্থ কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে সরাসরি তার উপরস্থ কর্মকর্তাকে যোগাযোগ না করে। স্পষ্ট বলা হয়েছে চেইন অব কমান্ড যেন ব্রেক না করে। সেই সিস্টেমটা আমরা চালু করেছি। ইতোমধ্যে সেটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নে মন্ত্রী বললেন, ‘অনেকেই বলছেন যে এই পোশাক নতুন পোশাক। এ বিষয়টা পরে। পোশাক পরিবর্তন করলে কি মানসিকতা পরিবর্তন হবে? সেটা পরে। এটা আমরা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যানজট নিরসনে সেল গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বললেন, ‘ডিএমপি কমিশনারকে আমরা অনুরোধ করেছি আমাদের যে ট্র্যাফিক ডিপার্টমেন্ট আছে তাদের সঙ্গে বসে আমরা কীভাবে যানজট কমাতে পারি। তারা এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের একটা রিপোর্ট দেবে।’

‘যেমন- এখানে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা সীমাহীন হয়ে গেছে। ভিআইপি রোডসহ প্রধান প্রধান সড়ক যেখানে আছে যেখানে নন মোটরাইজ ভেহিকেল চলার কথা না। সেখানে অসংখ্য ব্যাটারিচালিত গাড়ি চলছে। এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।’

পরীক্ষামূলকভাবে এসব রিকশা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা জানালেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

‘উত্তরা থেকে এয়ারপোর্ট রোড, ভিআইপি রোড হয়ে সচিবালয় হয়ে এই রোডটা যেটাকে আমরা ভিআইপি রোড হিসেবে জানি। এইখানে প্রাথমিকভাবে আমরা এই চলাচলগুলো সীমিত করব। নিয়ন্ত্রণ করব ব্যাটারি। তারপর পরীক্ষামূলকভাবে আরেকটাতে যাব। এইভাবে আমরা চেষ্টা করব যানজট নিরসণ করার। এগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমরা বলেছি একটা রিপোর্ট দিতে।’

এসবের পাশাপাশি নাগরিকের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দিলেন তিনি।

‘আমরা নিজেরাই ট্রাফিক সিগন্যাল মানি না। বামের লাইনটা উন্মুক্ত থাকার কথা বামের লাইনে গিয়ে গাড়ি বসে থাকি, এগুলোর জন্য আমরা সিটিজেন হিসেবেও দায়ী। আমরা এই সচেতনতাটা আবার সৃষ্টি করতে চাই, যাতে আমরা প্রত্যেকেই ট্রাফিক আইন মেনে চলি এবং ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করি।’

    শেয়ার করুন: