সুযোগ পেয়েই কাজে লাগালেন শরীফুল

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ বোলিং করেছেন শরীফুল। ছবি: আগামীর সময়
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে শুক্রবারের ম্যাচের আগে শরীফুল ইসলাম সবশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। মোস্তাফিজুর রহমানের কারণে তিনি এমনিতেই জাতীয় দলের বোলিং লাইনআপে প্রথম পছন্দ নন। আজও তার প্রথম একাদশে খেলার কথা ছিল না। কিন্তু মোস্তাফিজ বাম পায়ে ব্যাথা পাওয়ায় ভাগ্য খুলে যায়। সুযোগ পেয়ে দারুণভাবেই সেটা কাজে লাগান এই পেসার।
মিরপুরে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ ১০ ওভারের স্পেলে দুই মেডেনসহ মাত্র ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন শরীফুল। প্রায় দেড় বছর পর দলে ফেরা বোলারের এমন পারফরম্যান্স উল্লেখ করার মতো। বাঁহাতি ওপেনার নিক কেলির উইকেট নিতে খুব বেশি কিছু করতে হয়নি। অফস্টাম্পে থাকা বলটি উইকেটে পড়ে নিচু হয়ে যায়। কেলি ফুল সুইংয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন।
দ্বিতীয় উইকেট শিকারে নিজের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন শরীফুল। ডানহাতি মোহাম্মদ আব্বাসের পঞ্চম স্ট্যাম্পের বল খেলতে সমস্যা হচ্ছিল। আব্বাসের এই দুর্বলতাকেই শরীফুল কাজে লাগান। ৩৬তম ওভারে প্রায় ষষ্ঠ স্ট্যাম্পে বল ফেলে আব্বাসকে শট খেলার প্রলোভন দেখান। সেই ফাঁদে পা দেওয়া আব্বাস কাভার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন।
এমনিতে টি-টোয়েন্টির বোলার হয়ে উঠেছিলেন শরীফুল। জাতীয় দলের ছোট ফরম্যাটে নিয়মিত সুযোগ পেয়েছেন একাদশে। সবশেষ ওয়ানডের পর শুক্রবারের ম্যাচ পর্যন্ত ১৭টি টি-টোয়েন্টি খেলে সমান সংখ্যক উইকেট পেয়েছেন। উইকেটের সংখ্য কম হলেও রান দেওয়ায় ছিলেন মিতব্যায়ী। এর আগে পিএসএলে পেশোয়ার জালমির হয়ে খুব বেশি উইকেট না নিলেও রান আটকানোয় কার্যকর ছিলেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে বিসিএল ওয়ানডেতে নর্থ জোনের হয়ে সফল ছিলেন। চার ম্যাচে নিয়েছেন ছয় উইকেট। এক ম্যাচে ২ উইকেট নিতে ৮৩ রান খরচ হলেও বাকি গুলোতে ১০ ওভারের হিসেবে রান দিয়েছেন কম - ১/৪৫, ২/২৮, ১/৩৪।
বিসিএলে শরীফুলের দল নর্থ জোনের কোচ তালহা জুবায়ের বলেছেন, ‘শরীফুল লম্বা স্পেল নিয়ে অনেক কাজ করেছে। তাই ওয়ানডেতে ভালো ফল পাচ্ছে। আজকে যেমন বোলিং দেখলাম, অবশ্যই শরীফুলকে বিশ্বকাপের চিন্তায় রাখা যায়। কারণ যে কোনো দলই চাইবে ১০ ওভারে তার বোলার রান কম দেবেন এবং উইকেটও নেবেন। শরীফুল আজ দুটোই করেছে।’



