আগামীর সময়

ইমরান খান

কারাগারে কয়েদি নম্বর ৮০৪-এর দিনলিপি

কারাগারে কয়েদি নম্বর ৮০৪-এর দিনলিপি

ইমরান খান ও দুই ছেলে সুলায়মান-কাসিম খান। ছবি: সংগৃহীত

১৯৬৪ সালে রবেন আইল্যান্ডে আসার পর নেলসন ম্যান্ডেলার কয়েদি নম্বর ছিল ৪৬৬/৬৪। আফ্রিকার কালো মানুষদের মুক্তির দূতের এই নম্বরটা পরে হয়ে যায় ৪৬৬৬৪।

রাজনীতিতে হয়তো ম্যান্ডেলার উচ্চতায় পৌঁছাননি ইমরান খান। তবে তিনি পাকিস্তানের কয়েক প্রজন্মের আবেগের নাম। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের একটি নির্জন ব্লকে থাকা ইমরানের কয়েদি নম্বর আটশত চার। এই নম্বরটি হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের প্রতিবাদের প্রতীক। রাজপথ তো বটেই বিরিয়ানির দোকানেও এখন দেখা মিলছে ৮০৪-এর।

ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে না পারা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কারাগারে ইমরান খানের অসুস্থতার খবর শুনে কদিন আগে সুনীল গাভাস্কার, ইয়ান চ্যাপেল, গ্রেগ চ্যাপেল, মাইকেল আথারটনরা উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তান সরকারের কাছে মানবিক আবেদন জানিয়েছিলেন। তাতে কাজ হয়নি।

২০২৩ সালের মে মাসে গ্রেপ্তারের পর প্রায় ১ হাজার দিন কারাগারে ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মাথার ওপর ঝুলছে অনেক মামলা। তার সমর্থকদের দাবি, এসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা ও মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে ইংলিশ সাবেক অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের সঙ্গে কথা বলেছেন তার ছেলে সুলায়মান ও কাসিম খান। এ নিয়ে ব্রিটেনের দ্য টাইমস -এ নিবন্ধন নিখেছেন আথারটন। কাসিম খান সেখানে আথারটনকে বলেছেন,‘শুরুর কিছু দিন বাবার জেলজীবন খুব কঠিন ছিল। এখন তিনি নিয়মিত ধ্যান করেন। নির্যাতনই টিকে থাকার শক্তি জুগিয়েছে বাবাকে।’

কাসিম আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তান সরকার জনরোষকে ভয় পেয়ে আন্দোলনকে দুর্বল করতে চায়। ছোট ছোট বিষয়েও বাড়াবাড়ি করে ইমরানের সেলের বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয় তারা। এমনকি নতুন কোনো বই পড়তে দেওয়া হয় না সেলের ভেতরের লাইব্রেরিতে।

আর সুলায়মান বলেছেন, ‘বাবা এক চুলও নড়বেন না। যদি সম্মানজনক সমাধান আসে, যেমন রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি আর বাবার রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা- তাহলেই কিছু হতে পারে।’

এসব খবর এখন পাকিস্তানের সাধারণ মানুষও জানেন। তাই রাজপথে প্রায়ই স্লোগান উঠে, ‘তেরা ইয়ার, মেরা ইয়ার, কয়েদি নম্বর ৮০৪!’

    শেয়ার করুন: