নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা
বিশ্বকাপ নয় যুক্তরাষ্ট্রকে বয়কট ইরানের

দেশে ফেরা নারী ফুটবলারদের দেওয়া হয়েছে সংবর্ধনা। ছবি: সংগৃহীত
‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল ইরানি নারী ফুটবলারদের। কারণ তারা এশিয়ান কাপে প্রথম ম্যাচে জাতীয় সঙ্গীত গাননি। জীবনের হুমকি থাকায় এরপর অধিনায়কসহ ৭ জন আশ্রয় প্রার্থনা করেন অস্ট্রেলিয়ায়। দেশটির সরকার আশ্রয়ও দেয় তাদের। তবে পরে অধিনায়সহ পাঁচজন অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তাই কেবল দুজন ছাড়া পুরো নারী দল ফিরে এসেছে ইরানে।
মালয়েশিয়া, ওমান এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুল হয়ে সড়কপথে গুরবুলাক-বাজারগান সীমান্ত দিয়ে বুধবার ইরানে ফিরেন ফুটবলাররা। দেশে ফেরা ফুটবলারদের সংবর্ধনা দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে ছেলেদের বিশ্বকাপে ইরানের খেলা না খেলা নিয়ে শঙ্কা এখনও কাটেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানি ফুটবল ফেডারেশন থেকে তাদের ম্যাচের ভেন্যু যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। ফিফা তাতে অস্বীকৃতি জানায়।
এরপরও হাল ছাড়ছে না ইরানি ফুটবল ফেডারেশন। পার্সিয়ান সংবাদ সংস্থা ফার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ বলেছেন, ‘জাতীয় দল তুরস্কে অনুশীলন ক্যাম্প করছে। আমরা সেখানে দুটি প্রীতি ম্যাচও খেলব। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বর্জন করব কিন্তু বিশ্বকাপ নয়।’
চার-জাতি আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে ২৭ মার্চ নাইজেরিয়ার বিপক্ষে খেলবে ইরান। এর চার দিন পর কোস্টা রিকার বিপক্ষে খেলবে তারা। এই টুর্নামেন্টটি জর্ডানে হওয়ার কথা থাকলেও তবে মধ্যপ্রাচে যুদ্ধের কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তুরস্কে।
এদিকে নারী ফুটবলারদের স্বাগত জানাতে বুধবার তুরস্ক-ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকায় এসেছিলেন হাজারো সমর্থক। এক্সে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ লিখেছেন, ‘এই ফুটবলাররা মাতৃভূমির সন্তান, ইরানের জনগণ তাদের বরণ করে নিচ্ছে। দেশে ফিরে তারা ইরানের শত্রুদের হতাশ করেছে।’
ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘মেহর’ গুরবুলাক-বাজারগান সীমান্তে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে আজ (১৯ মার্চ) তেহরানের ভালিয়াসর স্কয়ারে আরও বড় আকারে ফুটবলারদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।

