নারী এশিয়ান কাপ
কঠিন সমীকরণের চাপ নিচ্ছে না বাংলাদেশ

পার্থের অনুশীলনে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ছবি: বাফুফে
টানা দুই ম্যাচ হার। হজম করেছে ৭ গোল, দিতে পারেনি একটিও। এরপরও বাংলাদেশ নারী দলের এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সুযোগ আছে। এজন্য সমীকরণ খুব সোজা- জিততে হবে উজবেকিস্তান ম্যাচ।
এবারের নারী এশিয়ান কাপে তিন গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে ১২ দল। প্রত্যেক গ্রুপে খেলা চার দল থেকে সেরা দুটি চলে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। তাদের সঙ্গে তিন গ্রুপের সেরা তৃতীয় দুই দলের সুযোগ থাকবে শেষ আটে যাওয়ার। বাংলাদেশের সামনে সেই সুযোগটাই। এজন্য উজবেকিস্তানকে হারাতে হবে এবং প্রার্থনায় বসতে হবে যেন ইরান-ফিলিপাইন ম্যাচ ড্র হয়।
সেরা তৃতীয় হওয়ার লড়াইয়ে ‘সি’ গ্রুপে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ভিয়েতনাম এগিয়ে। লড়াই হবে মূলত একটি জায়গার। এই লড়াইয়ে থাকা কোনও দলের আপাতত পয়েন্ট নেই। এখানে হিসাবটা হচ্ছে গোল ব্যবধানের। ইরান-ফিলিপাইন দুই দলেরই সুযোগ আছে সেরা তৃতীয় দলের একটি হওয়ার। তবে তাদের ম্যাচটি যদি ড্র হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সুযোগ বেড়ে যাবে। তখন উজবেকিস্তানকে হারালেই কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ।
সহজ কথায়, রবিবার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান ম্যাচটি অলিখিত ফাইনাল। যে জিতবে টিকে থাকবে টুর্নামেন্টে। বাঁচা-মরার এই ম্যাচে যেখানে জয়ের বিকল্প নেই, সেই ম্যাচের আগেও নীরবতা বজায় রাখলেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার ও অধিনায়ক আফঈদা।
চীন ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছে বাংলাদেশ। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ধারাটা ধরে রাখতে পারেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। যদিও দুটো ম্যাচ থেকেই প্রাপ্তি ইতিবাচক আত্মবিশ্বাস। উজবেকিস্তান ম্যাচে সেটিই বাড়তি জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে। যদিও ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে জয়ের প্রশ্নে বাড়তি চাপ নিতে চাইল না বাংলাদেশ।
উজবেকিস্তান সংবাদ সম্মেলনে পরিষ্কার করে গিয়েছে- জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না তারা। একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক আফঈদার বক্তব্য, “উজবেকিস্তানের সঙ্গে অবশ্যই চেষ্টা করব আমাদের সেরাটা দিয়ে খেলার। এটা আমাদের শেষ ম্যাচ। আমাদের হারানোর কিছু নেই। আমরা এত বড় মঞ্চে খেলতে পেরেছি, এটা আমাদের জন্য খুব গর্বের ব্যাপার। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে।”
চীন ম্যাচে লক্ষ্যে ৮ শট নিয়েছিল বাংলাদেশ। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে একটিও না। চীনের ম্যাচ দেখে কোরিয়ান কোচ জানিয়েছিলেন, তাদের মূল লক্ষ্য ঋতুপর্ণা চাকমাকে আটকানো। সেই চেষ্টায় সফল হয়েছে উত্তর কোরিয়া। উজবেকিস্তানও হয়তো এই মিডফিল্ডারকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করছে।
বাংলাদেশ অবশ্য ঋতুপর্ণা-নির্ভর নয়। কোচ বাটলার বলেছেন, “ঋতুপর্ণা একজন দারুণ অ্যাথলেট। সে প্রতিনিয়ত নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আরও ভালো করবে। তবে আমরা শুধু একজনের দল না। পুরো দলের সবাইকে নিয়েই পরিকল্পনা করি। আমাদের পেশাদার হতে হবে। প্রতিপক্ষ যেমন পরিকল্পনাই তৈরি করুক না কেন, সেই বাধা অতিক্রম করে সামনে যেতে হবে।”
চীনের কাছে ২ গোল হজমের পরও টুর্নামেন্টের সেরা দুটি তৃতীয় দল হওয়ার পথে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫ গোল হজম করায় আবার পিছিয়ে পড়েছে। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে উজবেক ম্যাচ জিততেই হবে।

