সাম্বায় মোহিত করার অপেক্ষায় এনদ্রিক

ব্রাজিলের এক্স ফ্যাক্টর হতে পারেন এনদ্রিক। ছবি: সংগৃহীত
পেলে, গারিঞ্চা, রোমারিও, রোনালদো, রোনালদিনহোদের ব্রাজিলকে বলা হত অন্য গ্রহের দল। এই মহাতারকাদের ব্রাজিল কেবল বিশ্বকাপই জিতেনি, ফুটবলকে পরিণত করেছিল শিল্পে। অথচ গত দুই যুগের ব্রাজিল যেন সেই দলের অপভ্রংশ।
ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা যেখানে বিশ্বকাপ ফাইনাল হারকেই ব্যর্থতা মনে করে সেখানে ২০০২ বিশ্বকাপের পর তারা ফাইনালই খেলতে পারেনি। তিনবার বাদ পড়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেললেও জার্মানির সঙ্গে সেই হার ভুলে যেতে চাইবেন ভক্তরা।
ব্রাজিলকে কক্ষে ফেরাতে রীতি ভেঙে আনা হয়েছে ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। তিনিও খুলতে পারছেন না জাদুর ঝাঁপি। অথচ দলে আছেন ভিনিসিয়ুস, রাফিনিয়াদের মতো তারকা। সাম্বায় মোহিত করে শৈল্পিক ফুটবলের ফুল ফোটাতে তাহলে ভরসা কে? উঠে আসছে ‘নতুন পেলে’খ্যাত এনদ্রিকের নাম।
ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আনচেলত্তি নামাননি এনদ্রিককে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সুযোগ পেয়েই এই তরুণ দেখান নিজের ঝলক। শেষ দিকে আদায় করেছেন পেনাল্টি। ব্রাজিলের তৃতীয় গোলের বিল্ডআপেও রেখেছেন অবদান। নেইমার না থাকলে এই এনদ্রিকই হতে পারেন ব্রাজিলের এক্স ফ্যাক্টর।
ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর পর এনদ্রিকও জানিয়েছেন বিশ্বকাপে সুযোগ পেলে নিজেকে উজাড় করে খেলার কথা,‘আমার ভেতর এক ধরনের তাগিদ ছিল। আমার স্ত্রী বলেছিল মাঠে নামি, গোল করি বা অ্যাসিস্ট করি বা না করি- এখানে থাকতে পারাটাই একটা জয়। আমার সব চাপ দূর হয়ে যায় তখনই।’
৬০ মিলিয়ন ইউরোয় রিয়াল মাদ্রিদ কিনেছিল এনদ্রিককে। এত দাম দিয়ে কিনেও তাকে ব্যবহার করেননি আনচেলত্তি আর জাবি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে আনচেলত্তির অধীনে ৩৭ ম্যাচ খেললেও মাঠে ছিলেন মাত্র ৮৪৭ মিনিট। বেশিরভাগ ম্যাচ খেলতে হয়েছে বদলি হয়ে।
তাই গোল কেবল ৭টি আর অ্যাসিস্ট একটি। জাবির সময় সুযোগ পেয়েছেন আরও কম। মাত্র ৩ ম্যাচ খেলায় শঙ্কা জাগে বিশ্বকাপ মিসের। তাই ধারে চলে আসেন অলিম্পিক লিঁওতে।
ফ্রান্সের এই ক্লাবে নিজের প্রতিভা চিনিয়েছেন এনদ্রিক। ১৪ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ৫টি, অ্যাসিস্ট ৬টি। এই এনদ্রিককে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেই পারেন ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা, যার সামর্থ্য আছে সাম্বার ছন্দে মোহিত করার।

