বয়স লুকিয়ে প্রেম

লিনা কেতিলের সঙ্গে নিজের জীবনের ছবি শেয়ার করতে শুরু করেন, যাতে বোঝানো যায় নারীরাও কম বয়সী সঙ্গীর সঙ্গে ভালোবাসা পেতে পারেন।
‘প্রেমের কোনো বয়স নেই’ এ কথাটি আমরা সবাই শুনি। কিন্তু যখন প্রেমিকের বয়স প্রেমিকার চেয়ে ১৫ বছর কম হয়, তখন সামাজিক লোকলজ্জার ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। নরওয়ের লিনা নামের এক নারী ঠিক এই ভয়েই তার আসল বয়স লুকিয়ে প্রেম শুরু করেছিলেন। অনলাইন ডেটিং অ্যাপে ৩০ বছর বয়সী কেতিলের সঙ্গে যখন তার পরিচয় হয়, লিনা তখন ভয়ে কাঁপছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, ৪৫ বছর বয়সের কথা শুনলে হয়তো কেতিল সঙ্গে সঙ্গেই সম্পর্ক ভেঙে দেবে।
লিনা যখন ডেটিং অ্যাপে নিজের প্রোফাইল সাজান, তখন ইচ্ছে করেই বয়সের ঘরটা খালি রেখেছিলেন। তার ভয় ছিল, বয়স দেখলে হয়তো কেউ তাকে পছন্দই করবে না। লিনার ৪৫ আর কেতিলের ৩০ মাঝখানের এই ১৫ বছরের ব্যবধান তাকে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় রাখত। লিনা ভাবতেন, কেতিল যখন সিরিয়াস সম্পর্কের কথা বলছে, তখন তাকে সত্যিটা জানানো উচিত, কিন্তু যদি কেতিল তাকে ‘বুড়ি’ বলে ছেড়ে চলে যায়?
প্রথম দেখাতেই লিনা জানিয়েছিলেন, তার এক কিশোরী মেয়ে আছে। কেতিল তখন ভেবেছিলেন লিনা হয়তো খুব অল্প বয়সে মা হয়েছেন। কেতিলের চোখে লিনা এতই তরুণী ছিলেন যে তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি লিনা তার চেয়ে ১৫ বছরের বড়। কেতিল ভেবেছিলেন তাদের বয়সের পার্থক্য বড়জোর এক বা দুই বছর হবে। লিনার লুকানো সত্যিটা তখনও ছিল লোকচক্ষুর অন্তরালে।
কয়েক সপ্তাহের লুকোচুরি শেষ করে লিনা একদিন সাহস করে কেতিলকে সব খুলে বলেন। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, কেতিল দমে যাওয়ার বদলে লিনাকে আরও বেশি আপন করে নেন। এমনকি তিনি লিনার সেই কিশোরী মেয়ের কাছে গিয়ে অনুমতি চান যে, তিনি তার মায়ের সঙ্গে ডেটিং চালিয়ে যেতে পারেন কি না। কেতিলের এই মহানুভবতা দেখে লিনা অবাক হয়ে যান।
কেতিল মেনে নিলেও লিনা ভয় পাচ্ছিলেন কেতিলের বন্ধু আর আত্মীয়দের নিয়ে। তিনি কেতিলকে অনুরোধ করেছিলেন যেন কারও কাছে তার বয়স না বলা হয়। লিনা ভাবতেন, বন্ধুরা শুনলে হয়তো কেতিলকে নিয়ে হাসাহাসি করবে এবং তাকে ‘বুড়ি’ বলে খেপাবে। কিন্তু কেতিলের বন্ধুরা আর পরিবার লিনাকে এতই চমৎকারভাবে গ্রহণ করেছে যে লিনার সব ভয় এক নিমেষেই জল হয়ে গেছে।
বয়সের পার্থক্যের কারণে মাঝেমধ্যেই লিনা আর কেতিলের কথায় মিলত না। কেতিল যেসব আধুনিক ভাষা বা ‘স্ল্যাং’ ব্যবহার করতেন, লিনা তার কিছুই বুঝতেন না। আর এই জায়গাতেই ত্রাতা হয়ে এলো লিনার মেয়ে। সে তার মাকে বুঝিয়ে দিত কেতিলের বন্ধুদের আধুনিক সব শব্দের অর্থ। এখন লিনা আর কেতিল দুই বছর ধরে একসঙ্গেই আছেন এবং আগামী সপ্তাহে তারা নতুন একটি বাড়িতেও উঠছেন।
প্রেম আর আবেগের বাইরেও কিছু কঠিন বাস্তব নিয়ে এই যুগলকে ভাবতে হয়েছে। যেহেতু লিনা বয়সে বড়, তাই তিনি কেতিলের আগেই চাকরি থেকে অবসরে যাবেন। সেই কথা মাথায় রেখেই তারা তাদের নতুন বাড়ির খরচের ভাগাভাগি ঠিক করেছেন। এখন লিনা বেশি টাকা দিচ্ছেন, যাতে বৃদ্ধ বয়সে কেতিলের ওপর সব চাপ না পড়ে। একেই বলে সত্যিকারের বোঝাপড়া!
লিনা একা নন, কেসেনিয়া নামের ২৩ বছরের এক তরুণীও বিয়ে করেছেন ৪১ বছরের মিখাইলকে। সমবয়সীদের সঙ্গে ক্লাব আর মদ্যপান পছন্দ না করায় কেসেনিয়া বেছে নিয়েছেন মিখাইলের মতো একজন অভিজ্ঞ মানুষকে। তাদের মধ্যেও মাঝেমধ্যে জেনারেশন গ্যাপ ধরা পড়ে, যেমন কেসেনিয়া দিনে ১০০ মেসেজ পাঠাতে পছন্দ করেন, আর মিখাইল পছন্দ করেন সরাসরি কথা বলতে। তবুও দিনশেষে তারা একে অপরের পরিপূরক।
লিনা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই অসম প্রেমের গল্প প্রচার করেন। তিনি চান নারীরা যেন নিজের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আর লজ্জা না পায়। লিনা তার অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, আমি একবার এমন এক বৃদ্ধাকে দেখেছিলেন যার স্বামী তার চেয়ে ১৭ বছরের ছোট ছিল এবং প্রতিদিন সে তার স্ত্রীর জন্য ফুল নিয়ে আসত। লিনার বিশ্বাস সঠিক মানুষ খুঁজে পেলে বয়স কখনোই ভালোবাসার পথে বাধা হতে পারে না।





