বিশ্বশান্তি ও ন্যায়বিচার রক্ষার ডাক চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি: সিজিটিএন
ইরান ইস্যুতে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। রোববার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধ কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।
‘বলপ্রয়োগ বা সামরিক অভিযানের মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ ধরনের সশস্ত্র সংঘাত কেবল বৈরিতা বাড়াবে এবং নতুন সংকটের জন্ম দেবে’- মত চীনের শীর্ষ এই কূটনীতিকের।
কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমেই বর্তমান সংকটের সমাধান খোঁজা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বানও জানান। সতর্ক করে বললেন, যুদ্ধের এই পথ কেবল ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকেই নিয়ে যায়।
গত এক বছরে রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংলাপ ও সমন্বয়ের নতুন নজির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়াং ই।
‘এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক ও বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে। একইসঙ্গে এটি 'গ্লোবাল সাউথ'-এর দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে... বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বিশ্বশান্তি এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষার ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও নতুন আহ্বান হিসেবে কাজ করছে।’
বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের এই বন্ধন আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য বলে মনে করেন তিনি।
ওয়াং ই উল্লেখ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা চীনের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন তিনি।
‘দুই দেশ কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখে এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোতে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখে... এই কৌশলগত দৃঢ়তাই চীন-রাশিয়া সম্পর্ককে যে কোনো বাহ্যিক উসকানি বা চাপের বিরুদ্ধে টিকে থাকতে সক্ষম করে।’

