চীনে জাতিগত সংহতি আইন পাস, সংখ্যালঘুদের উদ্বেগ

সংগৃহীত ছবি
চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস সম্প্রতি বিপুল ভোটে জাতিগত সংহতি ও অগ্রগতি উৎসাহিতকরণ আইন পাস করেছে। এর ফলে দেশটিতে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক একীভূত করার আশঙ্কা দিয়েছে।
প্রায় ১৪০ কোটি জনসংখ্যার চীনে ৯২ শতাংশই হান চাইনিজ। আর বাকি ৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে উইঘুর, তিব্বতি ও মঙ্গোলীয়দের মতো বিশাল এক সংখ্যালঘু গোষ্ঠী।
বেইজিংয়ের দাবি, এই আইনের লক্ষ্য হলো জাতীয় ঐক্য বাড়ানো ও সামাজিক বৈষম্য দূর করা। তবে সমালোচক ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এটি নিয়ে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো চীনা জনগণের মধ্যে একত্বের বোধ তৈরি করা ও 'চীনা জাতির মহান পুনর্জাগরণ' ঘটানো।
সমালোচকদের মতে, এই আইন মূলত বেইজিংকে এমন এক আইনি ক্ষমতা দেবে যার মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের সাংস্কৃতিক স্বায়ত্তশাসনের যেকোনো দাবিকে তারা ‘বিচ্ছিন্নতাবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিতে পারবে। বিশেষ করে শিনজিয়াং ও তিব্বত অঞ্চলে এই আইনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উইঘুর প্রতিনিধিদের মতে, ২০১৬ সাল থেকে চলা গণ-আটক ব্যবস্থার পর এই নতুন আইন তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আরও বড় আঘাত হানবে।
এই আইনের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ভাষার ব্যবহার। চীনের বিভিন্ন বড় জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও লিপি থাকলেও নতুন আইনে হান চাইনিজদের মান্দারিন ভাষাকে সবার ওপরে স্থান দেওয়া হয়েছে।
স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন থেকে মান্দারিন ভাষাকেই শিক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এমনকি প্রাক-প্রাথমিক শিশুদেরও এই ভাষা শেখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আদর্শগতভাবে সব সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে কমিউনিস্ট পার্টি ওও হান-প্রধান সমাজের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আইন কার্যত 'হান জাতীয়তাবাদ' ও জোরপূর্বক একীভূতকরণের এক হাতিয়ার। এটি সংখ্যালঘুদের নিজেদের এলাকায় হান চাইনিজদের সঙ্গে 'মিশ্র বসতি' গড়তে বাধ্য করছে।
ইতিপূর্বে মঙ্গোলীয় ভাষা বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ইনার মঙ্গোলিয়ায় বড় বিক্ষোভ হয়েছিল, যা থেকে স্পষ্ট যে সংখ্যালঘুরা তাদের ভাষা ও পরিচয় টিকিয়ে রাখতে কতটা বদ্ধপরিকর। নতুন এই আইন সেই পরিচয়ের শেষ চিহ্নটুকু মুছে ফেলার এক বড় পদক্ষেপ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

