আগামীর সময়

পশ্চিম তীরের মসজিদে আগুন দিল অবৈধ ইহুদি বসতিস্থাপনকারী

পশ্চিম তীরের মসজিদে আগুন দিল অবৈধ ইহুদি বসতিস্থাপনকারী

সংগৃহীত ছবি

ফিলিস্তিনিদের মুক্তি সংগ্রাম আরব বিশ্বের অনেক পুরনো ক্ষত। যদিও বলা হয়, ১৯৪৮ সাল থেকে ইসরায়েল দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে, মূলত তার অনেক আগ থেকেই ইহুদিরা মুসলমানদের উচ্ছেদ করে আসছিল। ১৯৩৬ সালের ফিলিস্তিনি আরব বিদ্রোহ এর বড় প্রমাণ।

ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিন অধিবাসীদের দিন মাস ও বছর মৃত্যুর মিছিল দিন দিন ভারী হয়ে উঠে। পবিত্র রমজান মাসেও ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি মসজিদে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলের অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা।

গতকাল (২৩ ফেব্রুয়ারি) তারা মসজিদের দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লিখে আগুন দিয়েছে।

ঘটনা বিষয়ে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, উত্তর পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে সাররা ও তাল গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদে এ হামলা চালানো হয়।

এপির খবর অনুযায়ী, ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে এসে মুসল্লিরা মসজিদের প্রবেশদ্বারে ধোঁয়া ও আগুনের চিহ্ন দেখতে পান।

মসজিদের পাশেই মুনির রামদানের বাড়ি। তিনি বলেন, ‘আমি দরজা খুলে স্তম্ভিত হয়ে যাই। সেখানে আগুন জ্বলছিল, কাচ ও দরজা ভাঙা ছিল।’
মুনির আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুই ব্যক্তি পেট্রোল ও স্প্রে পেইন্ট নিয়ে মসজিদের দিকে যাচ্ছে এবং কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে দৌড়ে পালাচ্ছে।

হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এবং ‘প্রতিশোধ’ ও ‘প্রাইস ট্যাগ’ শব্দগুলো লিখে রেখে যায়। গাজা উপত্যকার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা অব্যাহত সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনা ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ১ হাজার ৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস করার এসব কর্মকাণ্ড ‘জাতিগত নিধনের’ শামিল।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত বছর পশ্চিম তীরে মোট ৪৫টি মসজিদে হামলা হয়েছে।

    শেয়ার করুন: