ট্রাম্পকে নোবেল দিয়ে দেওয়ার পরও খেদ নেই মাচাদোর

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে নোবেল স্মারক তুলে দেন মাচাদো
নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার দেওয়ার বিষয়ে কোনো অনুতাপ নেই বলে জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের সম্মেলনে শনিবার মাচাদো বলেছেন, মাদুরোকে অপসারণে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের কথা কখনও ভুলবে না ভেনেজুয়েলার মানুষ। ট্রাম্প এমন একজন নেতা যিনি ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকিতে ফেলেছেন নিজের দেশের নাগরিকদের জীবন।
২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন মাচাদো। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য দীর্ঘদিনের সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় তাকে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এই পদকটি উপহার হিসেবে দেন মাচাদো।
এর দুই সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে বন্দি রয়েছেন মাদুরো।
নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহের কথা প্রায়ই প্রকাশ করেন ট্রাম্প। মাচাদোকে এই পুরস্কার দেওয়া হলে এবং তিনি এটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তখন মাচাদো বলেছিলেন, পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন তিনি। তবে এই পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় নোবেল কমিটি।
পুরস্কার নেওয়ার আগে ভেনেজুয়েলায় আত্মগোপনে ছিলেন মাচাদো। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
মাচাদো বলেছেন, আমি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সমন্বয় করছি আমরা। তার মতে, ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক রূপান্তর এগিয়ে নিতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে মাচাদোর জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। মাচাদো খুবই ভালো মানুষ হলেও ভেনেজুয়েলায় তার যথেষ্ট সম্মান নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবুও দেশটির অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের জন্য সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে ভেনেজুয়েলার বিরোধীরা। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা হয় মাচাদোকে। ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট করেননি এই নোবেলবিজয়ী।
সূত্র: আলজাজিরা



