সামাজিক মাধ্যমে আসক্তিকর ফিচার বন্ধে কঠোর হচ্ছে যুক্তরাজ্য

প্রতীকী ছবি
শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করে রাখার ফিচার ও অ্যালগরিদম বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
রবিবার (২৯ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘সানডে মিরর’-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর ওপর সম্ভাব্য কড়াকড়ি নিয়ে এটিই এখন পর্যন্ত স্টারমারের সবচেয়ে কঠোর মন্তব্য।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে শিশু-কিশোররা সেখানে দিনের বড় একটি সময় ব্যয় করে এবং একপর্যায়ে আসক্ত হয়ে পড়ে।
‘শিশুদের আসক্ত করে রাখার এই প্রক্রিয়ার পক্ষে কোনো যুক্তি নেই। বর্তমান অবস্থা যেমন আছে, তেমন থাকবে না–পরিবর্তন আসবেই। এখন আমরা পদক্ষেপ না নিলে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না’, অবিরাম স্ক্রলিং এবং প্রতিদিন অ্যাপ ব্যবহারে উৎসাহিত করা ‘স্ট্রিকস’-এর মতো ফিচারের সমালোচনা করেন স্টারমার।
অস্ট্রেলিয়ার আদলে যুক্তরাজ্যেও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে স্টারমার উন্মুক্ত মনোভাব রাখছেন বলে জানান। সরকারের চলমান পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের আভাস দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসনও এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের বিকাশমান মস্তিষ্কের ওপর এসব অ্যালগরিদমের প্রভাব অত্যন্ত উদ্বেগের।
ডিজিটাল সম্মতির বয়সসীমা নির্ধারণ এবং আসক্তিকর কনটেন্ট খতিয়ে দেখার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাজ্যের এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে এক চাঞ্চল্যকর রায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির কারণে এক নারীর শৈশব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেটা ও গুগলকে ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। যদিও প্রযুক্তি কোম্পানি দুটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকার ইতোমধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ‘স্ক্রিন-টাইম’ নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এছাড়া সরকারের ডিজিটাল সুস্থতা বিষয়ক পরামর্শ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৩০০ কিশোর-কিশোরীর ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা ও ডিজিটাল কারফিউয়ের প্রভাব পরীক্ষামূলকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আগামী ২৬ মে পর্যন্ত এই পরামর্শ গ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে, যেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার অভিভাবক ও শিশু তাদের মতামত দিয়েছেন।

