আগামীর সময়

প্রযুক্তিখাতে ১ লাখ জনবল ঘাটতির মুখে যুক্তরাজ্য

প্রযুক্তিখাতে ১ লাখ জনবল ঘাটতির মুখে যুক্তরাজ্য

সংগৃহীত ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের জনবল সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। ফ্রন্টিয়ার ইকোনোমিকসের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশটির ডিজিটাল ও প্রযুক্তি শিল্পে দক্ষ জনবলের ঘাটতি ১ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে। এই তিনটি খাতেই প্রায় ৭৯ হাজার দক্ষ কর্মীর অভাব দেখা দিতে পারে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ৬ হাজার ৬০০ থেকে ৩৮ হাজার ৭০০ জন এবং সাইবার নিরাপত্তায় ২১ হাজার পর্যন্ত কর্মীর ঘাটতি হতে পারে। এ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর খাতে ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৯ হাজারে।

গবেষণায় দক্ষ জনবল তৈরির ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি ও বৈচিত্র্যের ঘাটতিকেও বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের এই উচ্চপ্রযুক্তির শিল্পগুলোর ৭৮ শতাংশ পদেই পুরুষরা কাজ করছেন। সেই তুলনায় জাতিগত সংখ্যালঘু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত নগণ্য।

যুক্তরাজ্য সরকারের ডিজিটাল ও প্রযুক্তি কৌশলের আওতায় থাকা ছয়টি খাতকে এই গবেষণায় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো: অ্যাডভান্সড কানেক্টিভিটি টেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ইঞ্জিনিয়ারিং বায়োলজি, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর।

‘‘জনবল সংকট এখনই ‘ব্যাপক’ ও ‘স্থায়ী’ রূপ নিয়েছে। সময়োচিত পদক্ষেপ না নিলে এটি ব্রিটিশ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে’’, ইউকে ইনস্টিটিউট ফর টেকনিক্যাল স্কিল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজির জন্য তৈরি এই প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি খাতে নতুনদের প্রবেশের ক্ষেত্রে নানাবিধ বাধা রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম ও শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের অমিল বা ‘স্কিল গ্যাপ’ বিদ্যমান।

এ ছাড়া জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রভাবও পড়ছে এই খাতে। যেমন: সেমিকন্ডাক্টর খাতের বর্তমান কর্মীদের প্রায় ৪০ শতাংশ আগামী ১৫ বছরের মধ্যে অবসরে যাবেন, যা শূন্য পদের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেবে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বেকারত্বের হার ৫.৩ শতাংশ। তরুণদের মধ্যে তা ১৬ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। প্রায় ১০ লাখ তরুণ শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের বাইরে থাকতে পারে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে প্রযুক্তি নির্ভর ক্যারিয়ারে যুক্ত করতে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, টি-লেভেল ও ভি-লেভেলের মতো কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই সংকট মোকাবিলায় সরকার, শিল্পখাত এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বয়ে ‘ফ্রন্টিয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ স্কিলস কোয়ালিশন’ নামে একটি নতুন জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. কেলি ভেরি বলছিলেন, প্রযুক্তি খাতের এই সংকট কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকার, শিল্প ও শিক্ষা খাতকে একযোগে কাজ করতে হবে।

ফ্রন্টিয়ার ইকোনমিক্সের প্রধান কর্মকর্তা থমাস ব্যাজার জানান, প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে দক্ষতার চাহিদা ও যোগানের মধ্যে দ্রুত ভারসাম্য আনা জরুরি।

    শেয়ার করুন: