দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত । তিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এ রায় দেওয়া হয়।
ইওলের সামরিক আইন জারির চেষ্টা জাতীয় রাজনীতিতে সংকট সৃষ্টি করেছিল। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল।
জানুয়ারিতে প্রসিকিউটররা আদালতে তার মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেন। তারা বলেন, ‘তার অসাংবিধানিক ও অবৈধ জরুরি সামরিক আইন জাতীয় পরিষদ ও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ব্যাহত করেছে... এবং কার্যত উদার গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে।’
দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
ইউনের হাজারো সমর্থক রায় ঘোষণার সময় বিচারকের বক্তব্য শুনে হতাশার নিঃশ্বাস ফেলেন। টেলিভিশনে সাজা ঘোষণার সম্প্রচার দেখতে দেখতে তারা চিৎকার করে বলেন, ‘কোরিয়া ধ্বংসের মুখে!’
সাজা ঘোষণার সময় একেবারে প্রতিক্রিয়াহীন ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। এ সময় তাকে তেমন কোনো আবেগ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি।
বিচারক বলেন, ইউন দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রকে মৌলিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন এবং তার কঠোর শাস্তি প্রাপ্য।
এর আগে ইউন দাবি করেছিলেন, তার সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টা ছিল বিরোধী দলের অনিয়মের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের একটি নিরীহ পদক্ষেপ। তবে বিচারক সেই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি।
ইউনের আপিল করার সম্ভাবনা রয়েছে এবং মামলাটি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে।
তবে আদালতের বাইরে জড়ো হওয়া তার সমর্থকদের উপস্থিতি থেকে স্পষ্ট, ইউন এমন একটি দেশ রেখে যাচ্ছেন যা গভীরভাবে বিভক্ত।

