আগামীর সময়

ভারতের জনসংখ্যা গণনায় মাঠে নামছে ৩০ লাখ কর্মী

ভারতের জনসংখ্যা গণনায় মাঠে নামছে ৩০ লাখ কর্মী

সংগৃহীত ছবি

২০২৩ সালে চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশে পরিণত হয় ভারত। ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ১৪০ কোটি মানুষের এই দেশে শুরু হচ্ছে জনগণনা। ২০২১ সালে গণনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে পিছিয়ে যাওয়া এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হচ্ছে আগামীকাল ১ এপ্রিল থেকে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, এই জনগণনায় মাঠে নামছেন ৩০ লাখ সরকারি কর্মকর্তা। তারা আগামী এক বছর ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিটি নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করবেন।

সোমবার ভারত সরকার জানিয়েছে, জনগণনার শুরুতে নাগরিকদের স্বল্প সময়ের জন্য অনলাইনে নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এরপর দুই ধাপে সরাসরি ঘরে ঘরে জরিপ চালানো হবে।

জনগণনা কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ জানান, প্রথম ধাপে বাড়ি ও আবাসন পরিস্থিতির তালিকা করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

তবে ভারতের জনসংখ্যার এই ক্রমবর্ধমান রূপকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা। বরং তারা মনে করছেন, বিশ্বের অনেক বড় অর্থনীতি যখন জনসংখ্যা হ্রাস ও বয়স্ক কর্মশক্তির সমস্যায় জর্জরিত, তখন ভারতের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশটির জন্য বিশাল সম্ভাবনা। সরকার দীর্ঘদিন ধরে এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ শ্রমশক্তির বড় ভাণ্ডার গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে তুলে ধরছে।

এই জনগণনায় বর্ণভিত্তিক তথ্যও সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন জনগণনা কমিশনার নারায়ণ। হাজার বছরের পুরোনো এই কঠোর সামাজিক স্তরবিন্যাস ব্যবস্থা ভারতের সমাজ ও রাজনীতিতে গভীর প্রভাব বিস্তার করে আসছে। বর্ণভিত্তিক রাজনৈতিক দল অনেক, আর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তথাকথিত নিম্নবর্ণের মানুষের জন্য চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় সংরক্ষিত কোটা দিতে হয়।

সমর্থকেরা বলছেন, সরকারি সহায়তার উপযুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে এ ধরনের তথ্য জরুরি। তবে সমালোচকদের মতে, বৈশ্বিক পরাশক্তি হওয়ার লক্ষ্যে থাকা একটি দেশে বর্ণব্যবস্থার কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ৮০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বর্ণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছিল ভারত। তবে যথার্থতা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় সেই তথ্য পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।

আগামীকাল ১ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া এই জনগণনা আগামী বছরের মার্চে শেষ হওয়ার কথা। কমিশনার নারায়ণ জানান, প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগৃহীত এ জনগণনার বিভিন্ন তথ্য দ্রুতই প্রকাশ করা হবে। সূত্র : রয়টার্স

    শেয়ার করুন: