আগামীর সময়

দীর্ঘ সময় পর ইরান থেকে এলপিজি কিনল ভারত

দীর্ঘ সময় পর ইরান থেকে এলপিজি কিনল ভারত

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানের তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) কিনেছে ভারত। এলএসইজি বাণিজ্য তথ্য ও শিল্প সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

২০১৯ সালে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপের কারণে ভারত ইরান থেকে জ্বালানি আমদানি বন্ধ করে দিয়েছিল। এলএসইজি তথ্য অনুযায়ী, এই ট্যাংকারটি প্রথমে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।

সূত্রগুলো জানায়, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ট্যাংকার ‘অরোরা’ ইরানি এলপিজি নিয়ে শিগগিরই ভারতের পশ্চিম উপকূলের মাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছাবে।

এই এলপিজি চালানটি ভারতীয় তিনটি জ্বালানি বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান—ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মধ্যে ভাগ করা হবে।

সূত্রগুলো জানায়, চালানটি একটি ট্রেডারের কাছ থেকে কেনা হয়েছে এবং এর মূল্য ভারতীয় রুপিতে পরিশোধ করা হবে। একই সঙ্গে ভারত আরও ইরানি এলপিজি কেনার সম্ভাবনাও যাচাই করছে।

তবে ভারতের শিপিং মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানান, তিনি এ ধরনের কোনো ইরানি চালান কেনার বিষয়ে অবগত নন। তিনি বলেছেন, ‘ইরান থেকে কোনো চালান আসছে—এমন তথ্য আমরা পাইনি।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভারত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক দেশ ভারত গত বছর ৩৩.১৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহার করেছে, যার প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে।

বর্তমানে সরকার শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছে।

ভারত ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা এলপিজি ট্যাংকারগুলো ধীরে ধীরে সরিয়ে নিচ্ছে। শিবালিক, নন্দা দেবী, পাইন গ্যাস এবং জগ বসন্ত—এই চারটি ট্যাংকার ইতোমধ্যে সরানো হয়েছে।

এছাড়া পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা খালি জাহাজগুলোতেও এলপিজি লোড করার কাজ চলছে।

    শেয়ার করুন: