আগামীর সময়

নেপালের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী কে এই বালেন্দ্র শাহ

নেপালের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী কে এই বালেন্দ্র শাহ

ফাইল ছবি

গত সেপ্টেম্বরে তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) বিক্ষোভের জেরে নেপালে পতন হয়েছিল কেপি শর্মা ওলি সরকার। অস্থির সময়ে বিক্ষোভ, অবস্থান ও প্রতিবাদের আবহে নেপালি জনগণের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন বালেন্দ্র শাহ বা বালেন্দ্র।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নেপালের সাধারণ নির্বাচন হওয়ার পর আজ শুক্রবার চলছে ভোট গণনা।


প্রাথমিক গণনার পর ফলাফলের ছবি কিছুটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জেন-জির পছন্দের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বেশ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।

সরাসরি নির্বাচন হওয়া ১৬৫টি আসনের মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি ৭৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলির সিপিএন (ইউএমএল) মাত্র ৬টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।

অন্য দিকে, নেপালি কংগ্রেস ৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। প্রাথমিক গণনার পর দেখা যাচ্ছে, পুরনো কিংবা পরিচিত দলগুলির উপরে নয়, নেপাল আস্থা রাখছে তুলনায় নতুন দল এবং নতুন নেতার উপরেই।

তাছাড়া দলের প্রধান, কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ ৬ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। তিনি ঝাপা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ওই একই কেন্দ্র থেকে লড়ছেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল-এর (ইউএমএল) প্রধান ওলি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তিনি। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বালেন্দ্রের নেতৃত্বাধীন নবীন বাহিনীই এগিয়ে রয়েছে।

গণনার পূর্বাভাস বলছে, নেপালের জেন-জির বড় অংশই পছন্দ করছেন সাবেক র‌্যাপার তথা রাজধানী কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র ও তার দলকে। ৩৫ বছর বয়সি বালেন্দ্র নির্বাচনে তরুণ তুর্কিদের মুখ হয়ে ওঠেছেন। বালেন্দ্রের প্রাক্‌-নির্বাচনী সমাবেশে বিপুল জনসমাগম ঘটেছিল, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন তরুণ ভোটার।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, আজ শুক্রবার সন্ধ্যা বা শনিবারের মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে। নেপালের সংসদের নিম্নকক্ষের মোট ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন হচ্ছে। এখন সেগুলোরই গণনা চলছে। সংসদের বাকি ১১০ আসন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্ধারিত হবে।

২০১৩ সাল পর্যন্ত নেপালের রাজনীতিতে খুব একটা পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ ছিলেন না বালেন্দ্র। পরে তিনি রাতারাতি ‘র‍্যাপ সেনসেশন’ হয়ে ওঠেন। হঠাৎ করেই তরুণদের মধ্যে তাকে নিয়ে উন্মাদনা তৈরি হয়। ২০২২ সালে বালেন্দ্র কাঠমান্ডুর মেয়র পদে নির্দল প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন।

বালেন্দ্র কাঠমান্ডুর ১৫তম মেয়রপদে জয়লাভ করার পর তরুণ প্রজন্মের কাছে বৈগ্রহিক হয়ে ওঠেন। জেনজি বিক্ষোভের সময় তাকেই ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ভাবতে শুরু করে দেন তরুণ প্রজন্মের নেপালিরা। নেপালের তরুণ-তুর্কিদের একাংশ ওলির আসনে বালেন্দ্রকে দেখতে চেয়েছিলেন।

কে এই বালেন্দ্র শাহ

বালেন্দ্র শাহ ছিলেন কাঠমান্ডুর মেয়র। দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে নেপালি জনতার পছন্দের প্রার্থী। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার বালেন্দ্রের রাজনৈতিক উত্থান উল্কার গতিতে। ২০২২ সালে নির্দল প্রার্থী হিসাবে রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন বালেন্দ্র। মেয়র নির্বাচনে শাসকদলের বাঘা বাঘা প্রার্থীকে হারিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নেন বালেন্দ্র।


বালেন্দ্রের পড়াশোনা নেপালের ভিএস নিকেতন উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল থেকে। হিমালয়ান হোয়াইটহাউস ইন্টারন্যাশনাল কলেজ থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। কর্নাটকের বিশ্বেশ্বরাইয়া টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (ভিটিইউ) থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন বালেন্দ্র।

তরুণ রাজনীতিবিদ হিসাবে জনপ্রিয়তা লাভ করলেও আরও একটি পরিচয় আছে তার। খ্যাতনামী র‌্যাপার হিসাবে নেপালে পরিচিত বালেন্দ্র। বালেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে থাকা সবচেয়ে কমবয়সি রাজনীতিকও বটে।

নেপালি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বালেন্দ্রের নাম জায়গা করে নিয়েছিল বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনে। পৃথিবীর জনপ্রিয়তম ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছিল তার নাম। এমনকি ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর মতো বিখ্যাত সংবাদপত্রের শিরোনামে উঠে এসেছিল বালেন্দ্রের নাম। সেই প্রতিবেদনে তার স্বচ্ছতা এবং তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতির প্রশংসা করা হয়েছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জেন-জির আন্দোলনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বালেন্দ্র। অস্থির পরিস্থিতির মাঝেই রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির ২১ জন সংসদ সদস্য পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন করে নির্বাচনের ডাক দেয় রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি। সেপ্টেম্বরে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভে ওলি সরকারের পতনের পর নেপালের পরবর্তী শাসনভার কার হাতে তুলে দেওয়া হবে সেই নিয়ে প্রবল চর্চা শুরু হয় নেপাল জুড়ে।

যুব আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া অন্যতম মুখ তথা কাঠমান্ডুর মেয়র সেই বলেন্দ্র শাহ এ বার শামিল হন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে। স্বতন্ত্র হিসাবে নির্বাচনে লড়াইয়ের পথে না হেঁটে নেপালের নামী টিভি উপস্থাপক তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রবি লামিছানের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিতে নাম লেখান তিনি। নেপালের নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসবেন বালেন্দ্র।


    শেয়ার করুন: