উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য: একের পর এক হামলা

ফাইল ছবি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানে ব্যাপকভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপরই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার মূল লক্ষ্য ইরানের নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংস করা। হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তা।
এসব হামলার ‘কঠিন’ জবাব দেওয়ার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে আসছে ইরান। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছে দেশটি। এছাড়া, ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবসহ দেশটির বেশ কয়েকটি শহরেও হামলা চালিয়ে আসছে ইরান।
ইরান যুদ্ধের আজ সোমবার দশম দিন। এদিন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্থাপনা’ নিশানা করতে হামলা অব্যাহত রেখেছে দেশটি। আজ ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে নতুন করে হামলা চালায় ইরান।
ইরানের সুপ্রিম লিডার নাম ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই কোর নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানায় দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড।
নতুন করে হামলার ঘোষণা দেয় ইসরায়েলও। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালাচ্ছে। খবর সিএনএন ও রয়টার্সের।
ইরানের রাজধানী তেহরানে বেশ কয়েকটি বড় আওয়াজ শোনা গেছে। বিমান হামলা হলে এমন আওয়াজ শোনা গেছে বলে জানায় সিএনএন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। রয়টার্সের ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের দক্ষিণের উপশহরগুলো থেকে ধোঁয়া উঠছে। আরেক ভিডিওতে দেখা গেছে, বৈরুতের একটি হোটেলে আগুন জ্বলছে। ধ্বংস হয়ে গেছে হোটেলের একটি অ্যাপার্টমেন্ট।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা বৈরুতে রাতে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের কুদস ফোর্সের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে।
বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগারে আজ হামলা হয়েছে। হামলার পর তেল শোধনাগারটির দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। হামলার শিকার বাহরাইন
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই তারা চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে পারছে না— বলে জানিয়েছে পেট্রোলিয়াম কোম্পানি।
বাহরাইনের রাজধানীর কাছে ইরানের ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা বাহরাইন নিউজ এজেন্সি।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, আহতদের সবাই বাহরাইনের নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী রয়েছে। তার মাথা ও চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। আহতদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী একজনের বয়স মাত্র দুই মাস।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের মধ্যে এমন কয়েকজন শিশু রয়েছে, যাদের অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বড় ধরনের একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চারটি ড্রোন দেশটির একটি বৃহত্তম তেলক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তখন মরু এলাকায় ড্রোনগুলো প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়।
কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ড জানিয়েছে, তারা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখতে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়।
এছাড়াও কাতারের সশস্ত্র বাহিনী একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহতের তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

