মধ্যপ্রাচ্যের ৫ দেশে ইরানি হামলা, ঝুঁকিতে অর্থনীতি

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত পাঁচটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে গত ২৪ ঘণ্টায় দফায় দফায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে ওই অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনীতি ও জনজীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এসব হামলায় শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে বিমানবন্দর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গতকাল শনিবার সবচেয়ে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। আবুধাবিতে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম’ জানিয়েছে, তাদের প্রধান কারখানায় ভয়াবহ হামলায় স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
একই সময়ে বাহরাইনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন’-এ হামলা চালানো হয়েছে। সেখানেও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও কর্মীরা আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক খাতের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে এই শিল্পগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
কুয়েতেও বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে চালানো এই ড্রোন হামলায় সরঞ্জামাদির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে সাধারণ বিমান চলাচল গুরুতরভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গতকাল ওমানের দক্ষিণে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সালালাহ বন্দরে দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় একজন বিদেশি কর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি ক্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে সৌদি আরবের আকাশসীমায় গত কয়েক ঘণ্টায় অন্তত ১০টি ড্রোন রুখে দেওয়ার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, অনুপ্রবেশকারী এই ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মিলিত হামলার উদ্দেশ্য হলো ওই অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া এবং মার্কিন জোটের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

