ইরান-সৌদি যুদ্ধে জড়াবে পাকিস্তান?

ফাইল ছবি
রিয়াদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণে ইরান-সৌদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে পাকিস্তান। সম্প্রতি এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার। বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ চালাচ্ছে ইরান; যার প্রেক্ষিতে এই আশঙ্কা।
ইসহাক দার জানিয়েছেন, গত শনিবার তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলাপে ইসলামাবাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে যে প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, সেখানে বলা আছে, ‘দুই দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে আগ্রাসন উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে।’ অর্থাৎ ইরান যদি সৌদিতে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইসলামাবাদ চুক্তির বাধ্যবাধকতার মুখে পড়তে পারে।
‘আমি তাদের প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি বুঝিয়ে বলেছি’, মন্তব্য করেন ইসহাক দার। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি ইসলামাদের কাছে ‘নিশ্চয়তা’ চেয়েছেন, সৌদি যেন ইরান আক্রমণ না করে।
কেন এই প্রতিরক্ষা চুক্তি
গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটির মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো এবং যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা। একইসময় রিয়াদ ও ইসলামাবাদ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে। কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলের হামলা চালাবার প্রেক্ষাপটে চুক্তিটি হয়েছিল।
যদিও পাকিস্তান বর্তমানে (২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে) সীমান্ত এলাকায় আফগানিস্তানের সঙ্গে এক ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তবুও সৌদি-পাকিস্তান চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে যখন রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনার দিনই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সতর্কবার্তা দেন। এই হামলায় সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ
ইরান গত সোমবার সৌদির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, যার মধ্যে আরামকোর রাস তনুরা তেল শোধনাগার অন্যতম। এটি সৌদির বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ শোধনাগার এবং অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। এই হামলার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সৌদির প্রতি ‘পূর্ণ সংহতি’ প্রকাশ করেছেন। অবশ্য বুধবার রাস তনুরা শোধনাগারে দ্বিতীয়বারের মতো হামলা চালানো হয়েছে।
রিয়াদ স্পষ্ট করেছে, তারা এই মুহূর্তে তেহরানের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিতে চায় না। তবে নিজেদের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষায় প্রয়োজনে যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ‘পূর্ণ অধিকার’ তাদের রয়েছে।
সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রক্ষায় সামরিক প্রতিক্রিয়ার সুযোগটি তাদের হাতে অবারিত। এর মধ্যেই গত শনিবার আবুধাবিতে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইরান-পাকিস্তান রসায়ন
ইরান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বেশ জটিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে উভয় দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত হামলার ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইরান, যাতে দুই শিশু নিহত হয়। এর দুদিন পর পাকিস্তানও পাল্টা বিমান ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে পরবর্তীতে উভয় দেশ উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সম্মত হয়।

