ইরানের বিজয় দাবি, তেহরান-বাগদাদের পথে পথে আনন্দ মিছিল

সংগৃহীত ছবি
পাঁচ সপ্তাহ পর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এ যুদ্ধবিরতিকে ইরানের বিজয় হিসেবে তুলে ধরছেন তেহরানের কর্মকর্তারা।
তাদের দাবি, ইরানের শর্তেই যুদ্ধ শেষ হওয়ার যে প্রতিশ্রুতি স্থানীয় বাসিন্দাদের তারা দিয়েছিলেন, সেটি সফল হয়েছে।
চুক্তির পর জনগণের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে কর্মকর্তারা গর্ব নিয়ে উল্লেখ করেছেন, এই ভয়াবহ যুদ্ধের মোকাবিলায় ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ দৃঢ়তা, ধৈর্য ও সাহসিকতা দেখিয়েছে এবং দেশের ঐক্যের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।
ওয়াশিংটনকে কটাক্ষ করে ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, আমেরিকান ও ইসরায়েলিদের হিসাব ছিল প্রথম দিনেই ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করলে শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সেটা ঘটেনি।
তাদের জোর দাবি, বিগত সপ্তাহগুলোর লড়াই এটাও প্রমাণ করেছে যে ইরান এই যুদ্ধ চালাতে এবং শেষ পর্যন্ত দেশকে রক্ষা করতে সক্ষম।
ইরানের ইসলামি সরকার ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যুদ্ধবিরতিকে শাসকগোষ্ঠীর একটি বড় বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে।
দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসিআই) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরান এ যুদ্ধে প্রায় সব লক্ষ্যেই পৌঁছেছে এবং শত্রুপক্ষ একটি ঐতিহাসিক ব্যর্থতার সামনে পড়েছে।
যুদ্ধের একদম শুরুতেই শীর্ষ নেতৃত্বকে হারায় ইরান। এরপরেও ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলার বিরুদ্ধে পাঁচ সপ্তাহের বেশি টিকে থাকা তেহরান বিজয় দাবি করতেই পারে; এমন বক্তব্য বিশ্লেষকদের।
এ তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেন, ইরানের দেওয়া ১০টি দাবি আমেরিকানরা আলোচনার ভিত্তি হিসেবে মেনে নিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের বেশিরভাগ বিষয়েই সমঝোতা হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইরানিরা নেতাদের কাছ থেকে যুদ্ধে যা যা চেয়েছিল, তা পেয়ে গেছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির খবরে রাজপথে নেমে উল্লাস করতে দেখা গেছে রাজধানী তেহরানের বাসিন্দারা।
এছাড়া ইরাকের রাজধানী বাগদাদেও আনন্দ মিছিল করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা।



