ইরান থেকে যেভাবে পাইলটকে উদ্ধার করে নিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

প্রতীকী ছবি
ইরানের দুর্গম পাহাড়। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। আশেপাশেই আছে শত্রুসেনা। আত্মরক্ষার হাতিয়ার বলতে শুধু একটি পিস্তল আর প্রশিক্ষণ— ইরানে বিধ্বস্তের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা এমন পরিস্থিতিতেই ছিলেন মার্কিন বিমানের নিখোঁজ ক্রু। আহত অবস্থাতেও আটক হওয়া এড়িয়ে লুকিয়ে ছিলেন বিমানটির ওই অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা। পরে দুর্ধর্ষ এক অভিযানে গত শনিবার রাতে তাকে উদ্ধার করেছে মার্কিন কমান্ডো বাহিনী।
গত শুক্রবার বিমানটি যখন বিধ্বস্ত হয় তখন সেটি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন দুই পাইলটই। তবে একজনকে সেদিনই উদ্ধার করা গেলেও খোঁজ মিলছিল না দ্বিতীয়জনের। তাকে উদ্ধারে বিশেষ অভিযানে নেভি সিল টিম ৬ এর শতাধিক কমান্ডো। উদ্ধার অভিযানে নতুন করে কোনও হতাহত হননি কেউ যাকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলেই দেখা হচ্ছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সেনাবাহিনীর হামলায় আক্রান্ত হওয়ার পর বিমান থেকে বেরিয়ে আসার সময় আঘাত পান ওই ক্রু। তবে ভূমিতে অবতরণের পরপরই লুকিয়ে পড়েন পাহাড়ের গর্তে। তাকে আটকের চেষ্টায় থাকা ইরানি বাহিনী কিংবা উদ্ধারের চেষ্টায় থাকা যুক্তরাষ্ট্র, শুরুতে কেউই জানতো না তার অবস্থান।
২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ইরানি বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে থাকতে সক্ষম হন তিনি। আহত অবস্থায় পাড়ি দেন প্রায় ৭ হাজার ফুট উচ্চতার পাহাড়ি পথ। এমন পরিস্থিতিতে ইরানিদের বিভ্রান্ত আরও চতুর পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)। তাদের পদক্ষেপে মনে হচ্ছিল ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে নিয়ে সড়ক পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তার কাছে সংকেত পাঠানোর ডিভাইস ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল। তবে ইরানি বাহিনী শনাক্ত করতে পারে—এমন আশঙ্কায় খুব সীমিতভাবে সেটি ব্যবহার করেন তিনি। এক পর্যায়ে ওই ক্রুর অবস্থান জানতে পারে সিআইএ। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পেন্টাগন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় স্পেশাল ফোর্সের শতাধিক সেনা, ডজনখানেক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার। কাজে লাগানো হয় সাইবার ও মহাকাশভিত্তিক গোয়েন্দা সক্ষমতা।
অভিযানকালে ওই ক্রুর অবস্থানের আশপাশে ইরানি সেনাবহর ঠেকাতে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। কমান্ডোরা গুলি চালিয়ে ইরানি বাহিনীকে দূরে রাখলেও, সরাসরি সংঘর্ষে জড়ায়নি। মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এই অভিযানকে উল্লেখ করলেন, স্পেশাল ফোর্সের ইতিহাসে সবচেয়ে জটিল ও চ্যালেঞ্জিং অভিযানের একটি হিসেবে।
অভিযানের প্রথম অংশ সফলভাবে শেষ হলেও বিপত্তি বাধে শেষাংশে। ইরানের একটি দূরবর্তী ঘাঁটিতে অচল হয়ে পড়ে উদ্ধারকর্মীদের বহনকারী দুটি পরিবহন বিমান। পরে আরও তিনটি বিমান পাঠিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয় সবাইকে। শত্রুপক্ষের হাতে পড়া এড়াতে শেষ মুহূর্তে বিমান দুটিকে ধ্বংস করে দেয় তারা।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, যে অঞ্চলে বিমানটি ভূপাতিত হয়, সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে ইরান সরকারের। ফলে স্থানীয়দের কাছ থেকে আশ্রয় ও সহায়তা পেয়ে থাকতে পারেন ওই কর্মকর্তা।



