উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের হামলা

ইরানের হামলার পর বাহরাইনের বাপকো তেল শোধনাগারে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত
উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। হামলার কারণে এসব দেশের বহু জ্বালানি স্থাপনায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
যুদ্ধের ১৩তম দিন বৃহস্পতিবার এবং বুধবার রাতে এসব হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
আজ সকালে বাহরাইন মুহাররাক গভর্নরেটে হামলার পর বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে এবং জানালা বন্ধ করে রাখতে বলেছে। দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর রয়েছে এবং চলমান যুদ্ধের মধ্যে এটি ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা শায়বাহ তেলক্ষেত্র এবং দূতাবাস এলাকা লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তারা জানিয়েছে, তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ছোড়া সাতটি ড্রোন বুধবার ভূপাতিত করা হয়।
কুয়েতও তাদের ভূখণ্ডে হামলার খবর জানিয়েছে। দেশটি বলছে, একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে দুইজন আহত হয়েছেন।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, হামলায় ওই অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অব্যাহতভাবে ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করছে।
হামলা থেকে রক্ষা পায়নি ইরাকও। দেশটির জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় দেশটির সব কটি জ্বালানি বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক বন্দরগুলোর কার্যক্রম আগের মতোই সচল রয়েছে।
জর্ডানেও মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় অব্যাহতভাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এজেন্সি জানিয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যে উপসাগরীয় এলাকায় ছয়টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েই চলেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর থেকে ইরান এ অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

