আগামীর সময়

শোকের সঙ্গে উৎসবও হচ্ছে ইরানে!

শোকের সঙ্গে উৎসবও হচ্ছে ইরানে!

সংগৃহীত ছবি

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর মৃত্যুতে ইরান ও বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসলেও ইরানের অনেক মানুষই উদযাপন করছে।

শনিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে ঘোষণা করার পর ইরানের বিভিন্ন এলাকায় উদ্‌যাপন ও স্তম্ভিত অবিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ইরানের ভেতরে থাকা বাসিন্দাদের বর্ণনায় দেখা যায়, খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই আনন্দ, বিস্ময় ও অবিশ্বাস মিলিয়ে তীব্র আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে।

একজন ব্যবহারকারী এক্সে লিখেছেন, ‘আমি কাঁদছি, হাসছি, চিৎকার করছি এবং তিন সেকেন্ডে পৃথিবীর সব অনুভূতি অনুভব করছি।’

তেহরানে থাকা সূত্রগুলো, যারা স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পেরেছিলেন, জানান যে ঘোষণার পরপরই বাসিন্দারা জানালা দিয়ে বাইরে ঝুঁকে পড়েন বা ছাদে জড়ো হয়ে উদ্‌যাপনে স্লোগান দেন।

তেহরানের বাসিন্দা ফরজাদ বলেন, শিস ও মোটরসাইকেল এবং গাড়ির হর্নের শব্দ দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘সবকিছু একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়ে উঠেছিল।’

তীব্র ইন্টারনেট বিঘ্ন সত্ত্বেও কারাজ, কাজভিন, শিরাজ, কেরমানশাহ, ইসফাহান ও সানানদাজসহ বিভিন্ন শহরে মানুষকে নাচতে ও উদ্‌যাপন করতে দেখা যাচ্ছে—এমন ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রচার প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। রবিবার ভোরের দিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খবরটি নিশ্চিত করে ৪০ দিনের জাতীয় শোক এবং এক সপ্তাহের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে।

এদিকে ইরানি বাহিনী ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখে।

প্রিন্স রেজা পাহলভি এক বার্তায় ইরানিদের উদ্দেশে বলেন, খামেনির মৃত্যুর মাধ্যমে ইসলামী প্রজাতন্ত্র কার্যত শেষ হয়ে গেছে এবং শিগগিরই তা ‘ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে’ নিক্ষিপ্ত হবে।

তিনি বলেন, ‘খামেনির স্থলাভিষিক্ত করতে শাসনব্যবস্থার অবশিষ্ট অংশের যে কোনো প্রচেষ্টা শুরু থেকেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। যাকেই তার স্থানে বসানো হোক না কেন, তার কোনো বৈধতা বা স্থায়িত্ব থাকবে না।’

ইরানি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য উত্তরসূরি নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ পরিষদের ৮৮ জন ধর্মীয় সদস্যকে—যাদের কেউ কেউ বর্তমানে তেহরানের বাইরে থাকতে পারেন—সমবেত করার পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধাবস্থায় তা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসী ব্যবহারকারী এবং ইন্টারনেট-সংযোগ থাকা কিছু ইরানি খামেনিকে তাদের স্বপ্ন ও প্রিয়জনদের হত্যাকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

একজন ব্যবহারকারী ফার্স প্রদেশের আবদানান শহরের রাস্তায় তরুণদের নাচতে দেখা যাচ্ছে—এমন একটি ভিডিও পোস্ট করেন; শহরটি দুই মাসেরও কম সময় আগে ব্যাপকভাবে নিহত হওয়া বিক্ষোভকারীদের জন্য পরিচিত।

তিনি লেখেন, ‘তুমি আবদানানের মানুষকে গুলিতে ঝাঁঝরা করেছিলে, কিন্তু আজ আবদানানের মানুষ তোমার লাশের ওপর নাচছে, অপরাধী খামেনি।’

অন্যরা অবিশ্বাস প্রকাশ করে প্রমাণ দাবি করেন।

একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘খামেনির মৃত্যু আমার কাছে এতটাই অবাস্তব মনে হচ্ছে যে আমি তার মরদেহ না দেখা পর্যন্ত বিশ্বাস করব না।’

কেউ কেউ বলেন, দশকের পর দশক দমন-পীড়নের জবাব দেওয়ার আগেই তিনি হয়তো খুব দ্রুত মারা গেছেন—এ নিয়ে তাদের আক্ষেপ রয়েছে।

তবে উদ্‌যাপনের মধ্যেও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অধীনে প্রাণ হারানো মানুষদের জন্য শোক রয়ে গেছে।

একজন ব্যবহারকারী এক্সে লেখেন, ‘যদি খবরটি সত্য হয়, তাহলে সবকিছু এত হঠাৎ করে কীভাবে শেষ হয়ে গেল, যেন তিনি কখনো ছিলেনই না? হারিয়ে যাওয়া প্রিয় প্রাণগুলোর জন্য আফসোস, কারাগারে নষ্ট হওয়া বছরের জন্য আফসোস, ধ্বংস হয়ে যাওয়া জীবনের জন্য আফসোস।’

সূত্র : ইরান ইন্টারন্যাশনাল

    শেয়ার করুন: