আসিম মুনিরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইরানি প্রেসিডেন্ট

বৃহস্পতিবার তেহরানে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি : তাসনিম
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তেহরানে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। গতকাল বৃহস্পতিবারের এ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের ভূয়সী প্রশংসা করেন পেজেশকিয়ান।
এ সময় যুদ্ধবিরতির কূটনীতিতে কার্যকর অবদান রাখায় পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফেরও প্রশংসা করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। এছাড়া গত শনিবার ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলকে আতিথেয়তার জন্য পাকিস্তানি সেনাপ্রধানকে ধন্যবাদ জানান ইরানি প্রেসিডেন্ট।
বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের প্রতি ইরানের নীতি ও মনোভাব তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তার দাবি, ইরান সব মুসলিম দেশকে ভাই হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের এ দৃষ্টিভঙ্গি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
ইরানি প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। তার জোর দাবি, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের জবাবে আত্মরক্ষার জন্য চালানো হয়েছে হামলাগুলো।
পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলের বহু যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতার মূল কারণ ইসরায়েল। ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চায় দেশটি।
ইরানি প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, মুসলিম উম্মাহকে অবশ্যই ঐক্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে দাঁড়াতে হবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। ফিলিস্তিনের ভূমি শোষণ করা থেকে বিরত রাখতে হবে তাদের। মধ্যপ্রাচ্যেকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার সম্ভাবনা দূর করবে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনের অপরাধমূলক ও বেআইনি আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কার অনুমোদনে এবং কী কারণে তেহরানে হামলা চালানো হয়েছে—যার ফলে ইরানের শীর্ষ নেতার শাহাদাত, স্কুল ও হাসপাতাল ধ্বংস এবং নিরীহ শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের করা হয়েছে হত্যা।
পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা চায়নি, বরং প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে চায় ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক।
তিনি দাবি করেন, মুসলিম দেশগুলো স্বাধীনভাবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। ইউরোপ যেভাবে ন্যাটোর মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিচালনা করে, ঠিক সেভাবেই করা উচিত মুসলিম দেশগুলোর।
পাকিস্তানি সেনাপ্রধানকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সম্মানিত জনগণের কাছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেছেন পেজেশকিয়ান।
অন্যদিকে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বৈঠকে ইসলামি বিপ্লবের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, ইরানি কমান্ডার এবং নাগরিকদের শাহাদাতবরণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের পক্ষ থেকে প্রকাশ করেছেন গভীর শোক।
যুদ্ধ শেষ করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন মুনির। তার বিশ্বাস, খুব শিগগিরই একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।
ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া গত শনিবারের আলোচনার ওপর একটি প্রতিবেদনও পেশ করেন মুনির। তিনি আশাবাদী, অদূরভবিষ্যতে একটি চুক্তি সম্পাদিত হবে এবং অবসান ঘটবে যুদ্ধের।
সূত্র : তাসনিম নিউজ এজেন্সি



