সিরিয়ায় শুরু হয়েছে বাশার আল আসাদ সংশ্লিষ্টদের বিচার

সংগৃহীত ছবি
টানা দুই যুগ ক্ষমতায় ছিলেন সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। অবশেষে তার শাসনামলে বিভিন্ন পদে কর্মরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিচার শুরু করেছে দেশটি।
রবিবার রাজধানী দামেস্কের আদালতে হাজির করা হয় আসাদের আত্মীয় আতেফ নাজিবকে। প্রাথমিক শুনানিতে একমাত্র আসামি হিসেবে আদালতে ছিলেন তিনি। মামলাটি পুনরায় চলবে আগামী মাসে। এসব তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা সানা।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের বিদ্রোহের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়ন চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে-সময় দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান ছিলেন নাজিব।
মামলায় অনুপস্থিত অবস্থায় অভিযুক্ত আসাদ এবং তার ভাই মাহের আল আসাদ। সে-সময় মাহের ছিলেন সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ৪র্থ সাঁজোয়া ডিভিশনের কমান্ডার। একই মামলায় অনুপস্থিত অবস্থায় অভিযুক্ত করা হয়েছে আরও কয়েকজন সাবেক উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকেও।
এ সময় আদালতের বাইরে জড়ো হয় অনেক মানুষ, প্রকাশ করে আনন্দ। ছিলেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিচার মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলছিলেন, প্রকাশ্যে এ বিচার বেশ গুরুত্বপূর্ণ। থাকবে স্বচ্ছতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। একটি অন্তর্বর্তীকালীন বিচার প্রক্রিয়ার অংশ এটি।
২০১১ সালে বিদ্যালয়ের দেয়ালে সরকারবিরোধী গ্রাফিতে আঁকে কিছু কিশোর। তাদের গ্রেপ্তারের পর, করা হয় নির্যাতন। এই ঘটনা থেকেই বড় বিদ্রোহের সূত্রপাত। বাড়তে থাকে বিক্ষোভ, কঠোর অবস্থানে যায় সরকার। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিণত হয় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের আক্রমণে ঘটে আসাদের পতন। এরপর রাশিয়ায় পালিয়ে যান তিনি। দেশ ছেড়ে চলে গেছেন তার ঘনিষ্ঠদের বেশিরভাগও।
প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে এ যুদ্ধে। আসাদ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাই বেশ কঠোর অবস্থানে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এর আগে শুক্রবার সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা আমজাদ ইউসূফকে করা হয়েছে গ্রেপ্তার। ২০১৩ সালের তাদামন হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন তিনি। ওই ঘটনায় নিহত হয়েছিল অন্তত ৪১ জন।
২০২২ সালে একটি ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, আটক করা বেসামরিক লোকদের গুলি করছিলেন ইউসুফ।



