ইরান যুদ্ধের ‘শেষ সীমা’ দেখতে পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : রুবিও

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান যুদ্ধের শেষ দেখতে পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্কও পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। এরপর থেকে দেশ দুটির হামলায় ইরানে দুই হাজারের মতো মানুষ নিহত হয়েছেন। লেবাননে হাজারের বেশি মৃত্যু এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের মতো মানুষ।
তেহরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থপনায় হামলা শুরু করে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন সেনা হতাহতসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে।
পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রাখার কারণে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে বিশ্বের জ্বালানি বাজার।
এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ কবে শেষ হবে সে বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ শোতে বেশ খোলামেলা আলাপ করেন। তার মতে, আমরা যুদ্ধের শেষ সীমা দেখতে পাচ্ছি। এটি আজ নয়, কালও নয় কিন্তু খুব দ্রুতই ঘনিয়ে আসছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার আশা, উভয়পক্ষের মধ্যে ‘কোনো একসময়ে সরাসরি বৈঠক’ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গতকাল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর তার সামরিক হামলা বন্ধ করে দিতে পারে।
ট্রাম্প ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই যুদ্ধের নানা লক্ষ্যের কথা জানিয়ে আসছেন। তবে তার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সরকার উৎখাত। কিন্তু তার সে লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
হামলার শুরুতে যদিও ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। কিন্তু দ্রুতই দেশটি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ঘোষণা করে।
এখন ট্রাম্পের লক্ষ্য ইরানের সামরিক ও আঞ্চলিক প্রভাব দুর্বল করা।
এদিকে ইরান যুদ্ধ কবে শেষ করবেন তা নিয়েও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে চলেছেন ট্রাম্প। ফলে যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে তার সাম্প্রতিক সময়ের মন্তব্য আশাজাগানিয়া হলেও এর ওপর আস্থা রাখার সুযোগ নেই।
‘হ্যানিটি’ শোতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানকে বন্ধুহীন হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এখন পৃথিবীর কোনো দেশ বা সরকারই ইরানকে এমনভাবে সাহায্য করছে না, যা আমাদের মিশন বা লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে।
যদিও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া ও চীন এই যুদ্ধে ইরানকে নানাভাবে সহযোগিতা করছে।
চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের কোনো ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছে না। এমনকি ট্রাম্প বারবার কাকুতি-মিনতি করেছেন হরমুজ প্রণালী খোলার ক্ষেত্রে মিত্রদের এগিয়ে আসার জন্য, কিন্তু কেউই সাড়া দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের এসব মিত্রদের অধিকাংশই সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য। তারা এগিয়ে না আসায় এখন ন্যাটোর কার্যকরিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে। ফলে এই সামরিক জোটের সঙ্গে সম্পর্ক বিবেচনার আলাপ উঠছে ওয়াশিংটনে।
রুবিও মনে করেন ইরান যুদ্ধ শেষ হলে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে হবে ওয়াশিংটনকে। তবে এর এখতিয়ার শুধু ট্রাম্পের রয়েছে বলে জানান তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তটি প্রেসিডেন্টকেই নিতে হবে।

