হেগসেথকে ডাকা হচ্ছে ‘নির্বোধ ম্যাকনামারা’ নামে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে ইরান যুদ্ধে তার ভূমিকা এবং এসংক্রান্ত নানা আক্রমণাত্মক মন্তব্যের জন্য সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি পরিণত হয়েছে হাসি-ঠাট্টার পাত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগনের কর্মীরা এখন তাকে পাশবিক ডাকনামে ডেকে ঠাট্টা করছেন।
মঙ্গলবার জেটিওতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে, পেন্টাগনের বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা হেগসেথকে ডাম্ব ম্যাকনামারা বা নির্বোধ ম্যাকনামারা বলে উল্লেখ করেছেন।
এসব কর্মকর্তারা হেগসেথকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট ম্যাকনামারার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন সম্পৃক্ততা সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। এ যুদ্ধে আমেরিকার ভয়াবহ পরাজয় হয়।
সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ম্যাকনামারা ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার জন্য এতটাই জোরালোভাবে চাপ দিয়েছিলেন যে, কেউ কেউ একে ‘ম্যাকনামারার যুদ্ধ’ বলেও অভিহিত করেন। বর্তমানে হেগসেথের কঠোর সামরিক নীতিকে ব্যঙ্গ করার জন্য তাকে এই ডাকনামটি দেওয়া হয়েছে।
হেগসেথ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক অভিযানের অন্যতম সমর্থক হয়ে উঠেছেন এবং প্রশাসনের আক্রমণাত্মক অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন।
চলতি সপ্তাহে টেনেসিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প হেগসেথকে শুরু থেকেই যুদ্ধের আগ্রহী সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, পিট, আমার মনে হয় তুমিই প্রথম কথা বলেছিলে। তুমি বলেছিলে, চলো এটা (হামলা) করি।
ম্যাকনামারা ব্যবসায়ী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে পরে সরকারে যোগ দেন। তিনি ১৯৬১ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি এবং লিন্ডন বি. জনসনের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নিয়মিত ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে ইতিবাচক আপডেট দিতেন।
পরে যদিও গোপন নথি প্রকাশ পেলে দেখা যায় যে, ম্যাকনামারা জানতেন যুদ্ধটি একটি বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও বেশিরভাগ ইতিহাসবিদের মতে, মোট নিহতের সংখ্যা ২০ লাখ থেকে ৩৫ লাখের মধ্যে।
১৯৬৭ সালে ম্যাকনামারা একটি গোপন গবেষণার নির্দেশ দেন, যা পরে পেন্টাগন পেপারস নামে পরিচিতি পায়।
এই গোপন প্রতিবেদনটি ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার ইতিহাস ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে এবং যুদ্ধের কৌশল ও যৌক্তিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
ম্যাকনামারা পরে এই যুদ্ধে তার ভূমিকার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন। কিন্তু হেগসেথের ক্ষেত্রে সেই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তিনি প্রতিনিয়ত ইরানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছেন।
সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট ইউকে

