আগামীর সময়

দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ভাগ্য নির্ধারণ আজ

দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ভাগ্য নির্ধারণ আজ

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল।

ক্ষমতাপরবর্তী বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন বিশ্বের অনেক শাসক। কেউ পেয়েছেন মৃত্যুদণ্ডাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশের সাবেক সরকারপ্রধানেরও মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলও হয়েছেন বিচারের মুখোমুখি, পেতে পারেন মৃত্যুদণ্ডাদেশ।


তিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কি না এ নিয়ে দেশটির একটি আদালত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে। দোষী সাব্যস্ত হলে ইওলের সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড।

ইওলের সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টা জাতীয় রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছিল এবং দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল। ফলে ক্ষমতাচ্যুত এ নেতার জন্য এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি মুহূর্ত।

জানুয়ারিতে প্রসিকিউটররা আদালতে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেন। তারা বলেন, ‘তার অসাংবিধানিক ও অবৈধ জরুরি সামরিক আইন জাতীয় পরিষদ ও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ব্যাহত করেছে... এবং কার্যত উদার গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে।’

দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

দেশটিতে সবশেষ মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৬ সালে। তবে ১৯৯৭ সালের পর থেকে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।

মামলাটি শুনানি ঘিরে সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ বাস দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা বেষ্টনী দেখা গেছে আদালত ভবনের বাইরে।

আদালত আরও বিবেচনা করবেন, বিরোধীদের টেনে বের করে আটক করার উদ্দেশ্যে সেনা পাঠিয়ে পার্লামেন্টে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেয়া এবং বিরোধী দলের কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, তল্লাশি ও অবরোধে সেনা ও পুলিশ মোতায়েনের অভিযোগে ইউন তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন কি না।

৬৫ বছর বয়সী ইউন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রক্ষণশীল এই সাবেক ক্যারিয়ার প্রসিকিউটরের দাবি, সামরিক আইন জারির সাংবিধানিক ক্ষমতা তার ছিল। বিরোধী দলগুলোর সরকারি কার্যক্রমে বাধা দেয়ার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিতেই তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় সাবেক সরকারপ্রধানের মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে দেশটিতে গণতন্ত্র ফেরার পর সামরিক শাসকদের বিচার হয়।


৮ বছর দেশটিতে শাসন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট চুন দু-হোয়ান। ১৯৭৯ সালের অভ্যুত্থান ও গওয়াংজু দমন-পীড়নের দায়ে চুনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়। তবে পরে তা মওকুফ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমা পান তিনি।


    শেয়ার করুন: