নোয়াখালীতে নেই হালখাতার জৌলুস

ছবিঃ আগামীর সময়
একসময় নোয়াখালীতে বাংলা নববর্ষ মানেই ছিল হালখাতার উৎসব। জেলার ৯টি উপজেলায় চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা আয়োজন করতেন ঐতিহ্যবাহী এই অনুষ্ঠান। লাল মলাটের নতুন খাতা খুলে পুরনো দেনা-পাওনা চুকিয়ে নতুন হিসাব শুরু করার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠত ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধন।
তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিরচেনা আমেজ এখন অনেকটাই ম্লান। কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, সুবর্ণচর, চাটখিল ও হাতিয়া উপজেলার কিছু ব্যবসায়ী এখনও ধরে রেখেছেন হালখাতার প্রচলন। জেলার অধিকাংশ গ্রামগঞ্জে এই আয়োজন এখন বিলুপ্তপ্রায়। আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে বদলে গেছে ব্যবসার ধরন, কমেছে ঐতিহ্যবাহী উৎসবের কদর।
বসুরহাট, চৌমুহনী ও চাটখিল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখনও হালখাতা চলছে কিছু দোকানে। বিভিন্ন আকারের খাতা তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে, পাশাপাশি নিয়মিত ক্রেতাদের দেওয়া হয়েছে দাওয়াত। কোথাও কোথাও ছোটখাটো উপহারের আয়োজন থাকলেও আগের মতো জৌলুস নেই। খাবারের তালিকায় মিষ্টির বদলে হোটেলে চালু হয়েছে ভাত ও বিরিয়ানির রেওয়াজ।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন লেনদেন এবং সহজলভ্য ব্যাংকিং সেবার কারণে এখন আর খাতায় হিসাব রাখার প্রয়োজন আগের মতো নেই। অনেকেই নির্দিষ্ট দিনে হালখাতা না করে সুবিধাজনক সময়ে চুকিয়ে নিচ্ছেন হিসাব। তবে সব পরিবর্তনের মধ্যেও একটি বিষয় অটুট। হালখাতা শুধু হিসাবের খাতা নয়, এটি সম্পর্কের প্রতীক। ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে বিশ্বাস, আস্থা ও সৌহার্দ্যের বন্ধন গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে এই প্রথা।
বসুরহাট ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আব্দুল মতিন লিটন বলছিলেন,‘যথাযথ উদ্যোগ ও সচেতনতা থাকলে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্য আবারও প্রাণবন্ত করে তোলা সম্ভব। হালখাতা শুধুমাত্র একটি হিসাবের খাতা নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। এখনও গুরুত্ব রয়েছে এই আয়োজনের।’



