দিনাজপুর
আলুতে লোকসান, ভুট্টায় হাসছেন কৃষক

ছবি: আগামীর সময়
আলুর ফলন ভালো হলেও বাজারদর কম থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন দিনাজপুরের অধিকাংশ কৃষক। তবে একই জমিতে ভুট্টা চাষ করে সেই ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারছেন তারা। কম খরচ ও ভালো দামের কারণে জেলায় ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৭৬ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ৭৮ হাজার ৯০০ হেক্টরে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ৭০০ হেক্টর বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে।
জেলার ১৩টি উপজেলাতেই এখন আলুর সঙ্গে ভুট্টার আবাদ করছেন কৃষকরা। মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ভুট্টা সংগ্রহ ও মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক ক্ষেত্রে মাঠ থেকেই পাইকাররা ভুট্টা কিনে নিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বস্তাপ্রতি ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকায়।
পার্বতীপুর উপজেলার কৃষক জয়নাল ২ বিঘা জমিতে আলুর পাশাপাশি ভুট্টা চাষ করেন। আলুতে লোকসান হলেও ভুট্টা থেকে লাভ করে কিছুটা ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। তার ভাষ্য, ভুট্টায় খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি, তাই প্রতিবছরই ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। এ বছর ২ বিঘা জমিতে খরচ বাদে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।
বীরগঞ্জের কৃষক মঈনুল জানান, ভুট্টা চাষে ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকায় কয়েক বছর ধরে তিনি এই ফসল চাষ করছেন। এ বছর আগাম ভুট্টা আবাদ করে ভালো লাভ পেয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিক্রিতেও তেমন সমস্যা হয়নি।
ভুট্টা ব্যবসায়ী আরিফুজ্জামান উল্লেখ করেন, মৌসুম শেষে প্রতি কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত মুনাফা করা সম্ভব হয়। তার মতে, লাভজনক হওয়ায় দিনাজপুরে প্রতি বছরই ভুট্টার আবাদ বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের বৃষ্টিতে দাম কিছুটা কমেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন মন্তব্য করেন, ভুট্টা লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এই ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। এবছর অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পান, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।



