বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পুলিশ ফাঁড়ি, পাঠদান অস্থায়ী ঘরে

ছবি: আগামীর সময়
নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ে চলবে পাঠদান, কোলাহলে মুখর হবে প্রাঙ্গণ। কিন্তু বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের লক্ষ্মীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৭ বছর ধরে শ্রেণিকক্ষ দখল করে চলছে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে টিনের বেড়া দিয়ে তৈরি অস্থায়ী কক্ষে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের নিচতলায় টিনের বেড়া দিয়ে তিনটি অস্থায়ী কক্ষ তৈরি করে চলছে পাঠদান। এসব কক্ষে নেই পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, নেই বৈদ্যুতিক ফ্যান কিংবা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শৌচাগার। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার তিনটি কক্ষ ও শৌচাগার পুলিশ ফাঁড়ির দখলে রয়েছে।
২০০৯ সালে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্কুল ভবনের কয়েকটি কক্ষে শুরু হয় পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা আর সরানো হয়নি।
অথচ সাইক্লোন শেল্টার কাম এই বিদ্যালয় ভবনের দেয়াল ও সিঁড়িতে এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল, যা যেকোনো সময় তৈরি করছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীরা রানী তাফালীর ভাষ্য, বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীসংখ্যা প্রায় ১৩০ জন। কিন্তু উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। একই ভবনে পুলিশি কার্যক্রম চলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তার।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সহকারী শিক্ষক মালা আক্তার। তার বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও দিতে পারছি না। প্রচণ্ড গরমে ফ্যান নেই, সংকট রয়েছে আলো-বাতাসের। এতে শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন।
আরেক শিক্ষক মহিউদ্দিন স্বপন। তার মতে, ‘একই ভবনে পুলিশি কার্যক্রম চলায় নষ্ট হচ্ছে স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশ। ছোট শিশুরা ভয় পায়, যা মোটেও সহায়ক নয় শিক্ষার জন্য।’
‘আমাদের সন্তানরা গরু রাখার জায়গায় বসে পড়াশোনা করছে— এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। না আছে আলো, না আছে শৌচাগার। এভাবে ভালো শিক্ষা সম্ভব নয়’, মন্তব্য অভিভাবক ইলিয়াস আলীর।
একই ভবনে শিক্ষা ও পুলিশি কার্যক্রম একসঙ্গে চলা উচিত নয় বলে জানান বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, মন্তব্য তার।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মহিদুর রহমান জানালেন, এরই মধ্যে ফাঁড়িটির জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ শেষে করা হবে ফাঁড়ি স্থানান্তর। তবে এর আগে সাময়িকভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক, দাবি স্থানীয়দের।



