রাস্তার ইট চুরি! জামায়াত নেতাসহ ৬৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সংগৃহীত ছবি
সিলেটের জকিগঞ্জে রাস্তার ইট লুটপাটের অভিযোগে যুব জামায়াতের এক নেতাসহ ৬৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে চুরির মামলা করেন।
এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় টাস্কফোর্সের অভিযান চালিয়ে জামায়াতের ওই নেতাসহ ছয়জনকে আটক করা হয়। অভিযানে রাস্তা থেকে লুট হওয়া ইট উদ্ধার করা হয়েছে।
মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০–৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে গ্রেপ্তার করা ছয় জন হলেন, জকিগঞ্জের কসকনকপুর ইউনিয়নের বলরামেরচক গ্রামের মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরী (২৫), বীরেন্দ্র দাস (৬৫), মিন্টু দাস (৩২), সাকিব আহমদ (১৮), ভজন দাস (২৯) ও আলতাফ আহমদ লস্কর (৬৫)।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরী উপজেলা যুব জামায়াতের সহসাংগঠনিক সম্পাদক।
রাস্তার ইটগুলো ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখতে বলা হয়েছিল। কিছু ইট এখনো আছে; কিন্তু অধিকাংশ ইট লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। লুট হওয়া ইটগুলো অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে। বৃহস্পতিবার বিকালে বলছিলেন ইউএনও মাসুদুর রহমান।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরী ইট লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ফেসবুকে সোচ্চার ছিলেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘লড়াই চলবে। কোনো আপোষ নয়! সত্য সুন্দর এবার প্রমাণিত হবেই।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীন ২০২১ সালের দিকে কসকনকপুর ইউনিয়নের মুন্সিবাজার মাদরাসা থেকে উত্তর আইয়র বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক হেরিংবোন বন্ড–পদ্ধতিতে প্রায় ১০ লাখ ইট দিয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন সুরমা নদীর বাঁধের মেরামত কাজের জন্য ওই রাস্তায় মাটি ভরাট করা হচ্ছে। যে কারণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাটি ভরাটের আগে রাস্তার ইট তুলে মাদরাসার মাঠে রাখার কথা বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী কিছু ইট রাস্তা থেকে তুলে মাঠে রাখা হয়েছিল। তবে এর মধ্যে অধিকাংশ ইট রাস্তা থেকে লুটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযানে নেমেছিল টাস্কফোর্স।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আবু ইউসুফ মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি ইউএনওর কাছে ইট চুরির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি সরকারি প্রকল্পের রাস্তা থেকে প্রায় ১৫ লাখ ইট রাতের অন্ধকারে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে জকিগঞ্জের ইউএনও, বিজিবি, পুলিশ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার সমন্বয়ে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অভিযান শুরু হয়। মুন্সিবাজার মাদরাসা থেকে উত্তর আইয়র এলাকার বিভিন্ন বাড়ির ভেতরে এবং রাস্তার পাশ থেকে কয়েক লাখ ইট উদ্ধার করা হয়।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক।

