‘চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা অনেক বছরেও দেখিনি’

রবিবার ভোরে কুয়াশাচ্ছন্ন ঠাকুরগাঁও। ছবি: আগামীর সময়।
চৈত্র মাসে সাধারণত গরম আবহাওয়া বিরাজ করে দেশজুড়ে। কিন্তু প্রকৃতি একদম ভিন্ন মেজাজ দেখাচ্ছে উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে। আজ বাংলা ২৯ চৈত্র। চৈত্রের শেষেও ঘন কুয়াশার দেখা মিলছে ঠাকুরগাঁওয়ে।
আজ রবিবার ভোরে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় জেলার পথঘাট। কমে আসে দৃশ্যমানতা।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সদর উপজেলার সালন্দর এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম (৪৫) বিস্ময় প্রকাশ করলেন, ‘চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আর ঠান্ডা অনেক বছরেও দেখি নাই। ভোরে মাঠে কাজ করতে যাওয়া খুব কষ্টকর হচ্ছে।’
একই এলাকার গৃহিণী হাসিনা বেগমের (৩৮) কণ্ঠেও বিস্ময়, শীতের অনুভূতি হওয়ায় এখনও পাতলা কম্বল গায়ে জড়িয়ে ঘুমাতে হচ্ছে রাতে।
কলেজছাত্র মেহেদী হাসান (২২) বলেছেন, ‘ভোরে বাইরে বের হলে রাস্তা ঠিকমতো দেখা যায় না। কুয়াশা এত বেশি যে গাড়ি নিয়ে বের হতে ভয় লাগে।’
অসময়ে কেন এই কুয়াশা, এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান যুক্তি দেন, ঠাকুরগাঁও-এর অবস্থান হিমালয় পর্বতের পাদদেশে। তাই হিমালয়ের প্রভাব রয়েছে এখানে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা লঘুচাপ ও বায়ুর আর্দ্রতার কারণে ভোরের দিকে তৈরি হচ্ছে কুয়াশা। কিছুটা কম থাকছে রাতের তাপমাত্রাও।
তবে এ পরিস্থিতি সাময়িক। খুব শিগগিরই তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে এবং স্বাভাবিক তাপমাত্রা অনুভূত হবে, জানান তিনি।
গরম না থাকায় একদিকে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে কৃষিকাজ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কিছুটা প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন তারা।



