ভুল ইনজেকশনে দুই রোগীর মৃত্যু: তদন্ত কমিটি গঠন

ছবি: প্রতিনিধি
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের পর পরই দুই রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় দুই নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
বরখাস্তকৃতরা হলেন- হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স মলিনা রানী হালদার ও হেলেন অধিকারী।
রবিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করলেন হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর।
‘এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুল হককে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. আল মামুন খানকে। এছাড়া কমিটিতে হাসপাতালের উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মোসাম্মৎ শাহানাজ পারভীনকে সদস্য রাখা হয়েছে।’
এই কমিটিকে আগামী ১ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন হাসপাতাল পরিচালকের নিকট দাখিল করার জন্য বলা হয়েছে।
নার্সদের গাফিলতি অবশ্যই রয়েছে বলে জানালেন হাসপাতাল পরিচালক। ‘অস্ত্রপচারের আগে নানাবিধ ইনজেকশন পুশ করা হয়। তবে সেগুলোর ভিন্ন সময় রয়েছে। এখন অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর যে ইনজেকশন দেওয়া হয়, সেটি যদি বেডে বসে পুশ করা হয় সেখানে তো অবশ্যই গাফিলতি রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
প্রসঙ্গত, বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগে চিকিৎসাধীন হেলেনা বেগম (৪৮) ও শেফালি বেগমকে (৭০) ভুল ইনজেকশন প্রয়োগ করার অভিযোগ ওঠে কর্তব্যরত নার্সদের বিরুদ্ধে।
ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের ফলে রবিবার সকালে ৫ মিনিটের ব্যবধানে মারা যান দুই রোগী।
হেলেনা বেগম বরিশাল সদরের সারসী গ্রামের বাবুল হাওলাদারের স্ত্রী ও শেফালি বেগম পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের মন্নান তালুকদারের স্ত্রী।
হেলেনা থাইরয়েড ও শেফালী মুখের ভ্রি টিউমার অপসারণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের জন্য দুজনের শরীরে রবিবার সকালে কিছু ইনজেকশন পুশ করা হয়। এরপরপরই তাদের শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দেয় পরে তারা মারা যান।

