যশোর
মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশ পিটিয়ে আসামি ছিনতাই, পরে গ্রেপ্তার

ছবিঃ আগামীর সময়
যশোরের কেশবপুরে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে উত্তেজিত জনতা ও স্বজনরা। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার হিজলডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
তবে পালিয়ে যাওয়া সেই আসামিকে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে পার্শ্ববর্তী ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে কেশবপুর থানা-পুলিশের একটি দল হিজলডাঙ্গা গ্রামে সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে অভিযানে যায়। পুলিশ তাকে আটক করে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে আসার সময় বাধার মুখে পড়ে।
এ সময় জাহাঙ্গীরের ভাই আল-আমিন পার্শ্ববর্তী মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন যে, পুলিশ তার ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। মাইকের ঘোষণা শুনে মুহূর্তের মধ্যে গ্রামবাসী জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ও আসামির স্বজনরা লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এতে এসআই আসমত আলী, কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ও হাবিবুল্লাহ আহত হন। এই সুযোগে গ্রামবাসী হাতকড়াসহ আসামি জাহাঙ্গীরকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল শহিদুল ইসলামকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আজ তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কেশবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামি জাহাঙ্গীর পালিয়ে ডুমুরিয়া এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সেখান থেকে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ সকাল থেকে হিজলডাঙ্গা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে’, জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কথা জানান পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম।

