আগামীর সময়

মাদারীপুরে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে স্ত্রীর বাড়িতে অনশন!

মাদারীপুরে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে স্ত্রীর বাড়িতে অনশন!

ছবিঃ আগামীর সময়

পত্র-পত্রিকায় টেলিভিশনের সংবাদগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় একজন মেয়ে তার প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন। কিন্তু মাদারীপুরে ঘটেছে ব্যতিক্রম ঘটনা।  স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে স্ত্রীর বাড়িতে অনশন করছেন স্ত্রী। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

আজ বুধবার (০১ এপ্রিল)  দুপুরে জেলার  ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের নবগ্রাম গ্রামের স্ত্রী অনুশীলা বাড়ৈর বাড়িতে অনশনরত আছেন একই এলাকার বিপ্রদাস পাত্রের ছেলে বিশ্বজিৎ পাত্র ।

জানা যায়, ২০১২ সালে সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় নবগ্রাম এলাকার মেয়ে অনুশীলা বাড়ৈর সাথে। পরে দুজন দুজনকে খুদেবার্তা পাঠাতে থাকলে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। মেয়ের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় প্রেমিকা অনুশীলার পড়াশোনার দায়িত্ব নেয় ছেলে বিশ্বজিৎ পাত্র। এর পর ২০২২ সালে কোর্ট ম্যারেজ করে বিয়ে করেন তারা।

এদিকে মেয়ের নার্সিং পড়া শেষ হলে চাকরি পান ঢাকার একটি হাসপাতালে। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই বিশ্বজিৎ পাত্রকে ভুলে যাওয়ার কথা জানান তার বিবাহিত স্ত্রী অনুশীলা বাড়ৈ। এরপর থেকে অনুশীলা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে বুধবার দুপুরে তার বাড়িতে স্বামীর স্বীকৃতি দাবিতে অনশনে বসেন বিশ্বজিৎ।

প্রেমিক বিশ্বজিৎ পাত্র জানান, এ পর্যন্ত আমি অনুশীলাকে পড়াশোনা করার জন্য ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছি। আমি তাকে কোর্ট ম্যারেজ করে বিয়েও করেছি। কিন্তু সে যখন চাকরি পেল তখন থেকেই আমাকে ভুলে গেল। সে তো আমার বিয়ে করা স্ত্রী তাই আমি স্বামীর স্বীকৃতি পেতে আমার স্ত্রীর বাড়িতে এসেছি।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, জীবনের প্রথম এরকম ব্যতিক্রম ঘটনা দেখলাম। যেখানে মেয়েরা ছেলেদের বাড়িতে অনশন করে আর এই জায়গাতে ছেলে মেয়ের বাড়িতে অনশন করছে।

অনুশীলা বাড়ৈর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলছেন, আমি তাকে চিনি না। আর এ বিষয়ে আমি গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি নই। অনুশীলা বাড়ৈর বাবা মনোতোস বাড়ৈ বলেন, আমার মেয়ের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এই ছেলের সাথে তার সম্পর্ক আছে কিনা সেটাও আমরা জানি না।

ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, নবগ্রাম এলাকায় এমন একটি চাঞ্চল্য ঘটনা ঘটেছে বিষয়টি শুনে ঘটনা স্থানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

    শেয়ার করুন: