লাইভে এসে কাঁদলেন ছাত্রদল নেতা

সংগৃহীত ছবি
নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর এক নেতার ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করে জেলায় ছড়িয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় হিসেবে পরিচিত শহিদুল ইসলাম সোহাগকে প্রত্যাশিত পদ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লাইভে আসেন তিনি, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের ৯ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সোহাগকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হলেও এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। লাইভে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নিজের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন সোহাগ। সেখানে কান্নাজড়িত অবস্থায় কথা বলতে দেখা যায় তাকে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
সোহাগ তার বক্তব্যে দাবি করেন, দলের দুঃসময়ে তিনি সবসময় রাজপথের সামনের সারিতে ছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামে জড়িত থাকার কারণে তার নামে ছয়টি মামলা হয়েছে এবং ৪৭ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। তার ভাষ্য, জেল গেটে সাত দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতনের শিকার হন তিনি।
সোহাগ আরও উল্লেখ করেন, তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব পরিবারেও পড়ে। গত ২৮ অক্টোবর এক দফা অভিযানে তার দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তারা প্রত্যেকে ৫৩ দিন কারাভোগ করেন। এত ত্যাগের পরও দলীয় কমিটিতে প্রত্যাশিত মূল্যায়ন না পাওয়াকে তিনি বেদনাদায়ক বলে আখ্যা দেন। তার অভিযোগ, প্রভাবশালী সমর্থন ও আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় তিনি বঞ্চিত হয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা গেছে। অনেকের মতে, এটি শুধু একজন নেতার প্রতি নয়, ত্যাগী কর্মীদের প্রতি অবমূল্যায়নের প্রতিফলন। তাদের ভাষ্য, এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণ হতে পারে।
কয়েকজন নেতাকর্মী অভিযোগ করেন, যোগ্যতা ও ত্যাগের চেয়ে আত্মীয়তা ও আর্থিক প্রভাবকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণ কমতে পারে।
সোহাগ মন্তব্য করেন, বর্তমান বাস্তবতায় ত্যাগের মূল্যায়ন হচ্ছে না। তার দাবি, মামা-চাচা বা অর্থনৈতিক শক্তি থাকলেই পদ পাওয়া সহজ হচ্ছে।
জেলার ত্যাগী নেতাকর্মীদের একাংশ কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকৃত কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত না করলে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
ঘটনাটি এরই মধ্যে নওগাঁর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এখন কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্ব এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর সবার।



