সাংবাদিক পিটিয়ে থানায় নিলেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা

সংগৃহীত ছবি
মাদকসহ জব্দ মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ স্থানীয় বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা শাহিন শিকদারের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে পিটিয়ে থানায় নিয়ে গেছেন তিনি। সঙ্গে ছিল অনুসারীরাও। ঘটনাটি শুক্রবার রাতের, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর।
হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিকের নাম মাইদুল ইসলাম। তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘তালাস বিডি’ ও অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি। পরে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলা করে উল্টো তাকেই থানায় নেওয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও করেছেন। তবে বহিষ্কৃত ওই নেতার অপকর্মের দায় নিতে নারাজ স্থানীয় বিএনপি।
দুই দিন আগে শাহিন সিকদারের বাড়ির সামনে স্থানীয় কয়েকজন যুবক মাদকসহ এক ব্যক্তিকে আটকের চেষ্টা করে। সে সময় ওই ব্যক্তি মাদকসহ মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে মাদক স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারের জিম্মায় এবং মোটরসাইকেল শাহিন শিকদারের ভাইয়ের জিম্মায় দেওয়া হয়। শাহিন শিকদারের হস্তক্ষেপে মাদক ও মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে শুক্রবার প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক মাইদুল।
এরপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে শাহিন শিকদার ও তার অনুসারীরা মাইদুলের উপজেলা শহরের দোকানে হামলা করে ও তাকে পেটাতে থাকে। শাহিন শিকদার ও তার ছেলে তাকে দোকানের মেঝেতে ফেলে গলায় পা দিয়ে চেপে ধরেছিল। পরে পেটাতে পেটাতে থানায় নিয়ে যায়। তাকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করানোর হুমকিও দেয়া হয়। কিন্তু পুলিশ তাদের চাপে সাড়া না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত মামলা হয়নি। স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশের সহযোগিতায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়, জানাচ্ছিলেন ভুক্তভোগী মাইদুল ইসলাম ।
‘এশার আজানের কিছু সময় পর হুট করে শাহিন সিকদার ও তার নেতাকর্মীরা আমার দোকানে হামলা করে, আমাকে পেটাতে থাকে। আমার ঘাড়ে ও গলায় আঘাত করে। আমাকে পেটাতে পেটাতে থানায় নিয়ে যায়। তারা আমার নামে চাঁদাবাজির মামলা দিতে চেয়েছিল। পরে স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশের সহযোগিতায় ছাড়া পাই। এখনও প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছি’ বলছিলেন তিনি।
‘যে ঘটনা নিয়ে সংবাদ করেছি তা এলাকার সবাই জানে। আমি শুধু সংবাদ করেছি। এজন্য আমার ওপর হামলা হয়েছে। আমি বিচার চাই না। কার কাছে বিচার চাইব!’, আক্ষেপ প্রকাশ করলেন মাইদুল।
ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তবে তারা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, ‘শাহিন শিকদার এলাকায় প্রভাবশালী। তার বাড়ির সামনে স্থানীয় কয়েকজন যুবক মাদকসহ মোটরসাইকেল আটক করেছিল। শাহিন শিকদারের হস্তক্ষেপে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটা সকলেই জানে, কিন্তু শাহিন শিকদার স্বীকার করছেন না।’
অপরদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন শাহিন সিকদার। ‘সাংবাদিক আমার অনেক ক্ষতি করেছে। তাকে আমি পেটাইনি। তবে তাকে থানায় নেওয়া হয়েছিল। সকলের অনুরোধে আমি মামলা করিনি। তাকে ছেড়ে দিতে বলেছি’, জানাচ্ছিলেন তিনি।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠ বিচার চেয়েছেন কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রিগান। তার ভাষ্য, ‘সংবাদ নিয়ে অভিযোগ থাকলে প্রতিবাদ কিংবা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এভাবে একজন সাংবাদিককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে থানায় দেওয়া ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধেরে। অভিযুক্তরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় আছেন এ ঘটনা তার একটি নমুনা।’
এ ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মন্ডল। তিনি মনে করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা। তার দায় দল নেবে না।
তবে ভুল বোঝাবোঝি থেকে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আল হেলাল মাহমুদ। ‘ওই সাংবাদিককে থানায় আনা হয়েছিল। আমরা দুই পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করেছি। কোনো পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়নি।’

