চলনবিলে পলিথিনের ভেলায় ধান পরিবহন

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দ্রুত বাড়ছে নাটোরের চলনবিলের পানি। এতে তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চলের পাকা বোরো ধান, চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকেরা। শ্রমিক সংকট ও পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে শেষ ভরসা হয়ে ওঠেছে পলিথিন ও কলাগাছ দিয়ে তৈরি ভেলা।
সিংড়া উপজেলার চলনবিল এলাকায় হুলহুলিয়া গ্রামের কৃষকেরা এখন বাড়িতে ধান নিচ্ছেন পলিথিনের ভেলায় করে। অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে রয়েছে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, আকাশে কালো মেঘ আর বিলে টইটম্বুর পানি। পাকা ধান কেটে দ্রুত ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকেরা। কোথাওকেটে নেওয়া হচ্ছে আধাপাকা ধানও। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও নেমেছে ধান কাটার কাজে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, চলনবিলে ৩৬ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে বোরো ধান। এর মধ্যে ধান কাটা শেষ হয়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। আগামী এক সপ্তাহে প্রায় ৬০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হবে বলে আশা কৃষকদের।
হুলহুলিয়া গ্রামের কৃষক মাসুদ সেরোয়ার জানান, ধান পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে শ্রমিক সংকট ও বন্যার কারণে। তাই পলিথিন ও কলাগাছ দিয়ে ভেলা বানিয়ে ধান পরিবহন করছেন তারা। এভাবে একবারে এক বিঘা জমির ধান নেওয়া সম্ভব।
চামারী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, এই ভেলায় একসঙ্গে বেশি ধান নেওয়া যায়, তবে ঠেলে নিতে কষ্ট হয়। তবে এখন শেষ ভরসা এটিই।
ডাহিয়া ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক দুলাল সরদারের ভাষ্য, ৪৮ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন তিনি। অর্ধেক ধান কাটা হলেও বাকিটা তলিয়ে গেছে পানিতে।
ক্ষোভ নিয়ে বলেন তিনি, রাত জেগে বাঁধ দিলেও ঠেকানো যায়নি পানি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ জানান, পানি প্রবেশ ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে অস্থায়ী বাঁধ। তবে পানি ঢুকছে নিম্নাঞ্চলে। দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের দেওয়া হয়েছে নির্দেশ। পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুতই অধিকাংশ ধান কাটা শেষ হবে বলে আশা তার।



