আগামীর সময়

ঈদের রাত থেকে সকাল পর্যন্ত তিন জেলার সড়কে ঝরল ১৯ প্রাণ

ঈদের রাত থেকে সকাল পর্যন্ত তিন জেলার সড়কে ঝরল ১৯ প্রাণ

সংগৃহীত ছবি

ঈদের ছুটির মধ্যেই দেশের তিন জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে রবিবার (২২ মার্চ) সকাল পর্যন্ত কুমিল্লা, ফেনী ও হবিগঞ্জে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—

কুমিল্লা

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় রেললাইন অতিক্রম করার সময় বাসে ট্রেনের ধাক্কায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনটি রেলক্রসিং অতিক্রমের সময় মামুন পরিবহনের একটি বাস রেললাইন পার হচ্ছিল। এ সময় দ্রুতগতির ট্রেনটি বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর বাসটি ট্রেনের ইঞ্জিনে আটকে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যায়, ফলে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জনি বড়ুয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফেনী

ফেনীর রামপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। রবিবার ভোর ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

মহিপাল হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, সড়কের একটি লেনে সেতুর সংস্কারকাজ চলছিল। এ সময় ধীরগতির একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পেছন থেকে শ্যামলী পরিবহনের বাস ধাক্কা দেয়। এরপর চালকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে পেছনে যানজট তৈরি হয়। পরে বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস সেই জটলার মধ্যে ধাক্কা দিলে সংঘর্ষটি ঘটে। এতে বাসের সুপারভাইজারসহ তিনজন নিহত হন।

মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে চারজন নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, আসবাবপত্রবোঝাই পিকআপটি মহাসড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে গিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হন।

খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ, মাধবপুর থানা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল রানা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বান্দরবান

বান্দরবানে পর্যটকবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ি গভীর খাদে পড়ে অন্তত ২০ যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার ভোরে ঢাকা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশে ছেড়ে আসা একটি বাস সুয়ালক বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৪০ জন যাত্রী নিয়ে সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস ঢাকা থেকে বান্দরবানে আসছিল। রোববার ভোর ৫টার দিকে বাসটি জেলা সদরের সুয়ালক বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও ঢালুতে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে বাসের ভেতরে থাকা অধিকাংশ যাত্রী গুরুতর আহত হন।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহেদ পারভেজ জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে থাকা ৪০ জনের মধ্যে ২০ জন পর্যটক আহত হয়েছেন।

    শেয়ার করুন: