বরিশালে হাম আক্রান্ত ৮ শিশুর মৃত্যু, অধিকাংশ ৯ মাসের কম বয়সী

ছবিঃ আগামীর সময়
দেশে হাম এখন অনেকটা মহামারি। টিকা না নেওয়া বেশিরভাগ শিশুরই হাম আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলছে। আক্রান্তদের মধ্যে ছয় থেকে নয় মাস বয়সী শিশুই বেশি। বরিশাল বিভাগে মঙ্গলবার পর্যন্ত হামে ৮ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর। এই সংখ্যা গত তিন মাসের। গুরুতর অসুস্থ অনেক শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামের পাশাপাশি মিলছে রুবেলায় আক্রান্ত রোগীও।
বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের সবশেষ তথ্য, সোমবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন ৩৮ জন সন্দেহভাজনের মধ্যে ২৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছর বরগুনায় ৭৪ রোগীর নমুনা পরীক্ষায় ২২ জনের হাম ও একজনের দেহে পাওয়া গেছে রুবেলার ভাইরাস। সেখানে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৮ জন চিকিৎসাধীন।
ভোলায় হাসপাতালে আসা ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জনই হামের রোগী। একজন গুরুতর অবস্থায় ভর্তি। এই জেলায় এখন পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পিরোজপুরে হামে আক্রান্ত একজন, তবে উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ৬ জন। ঝালকাঠিতে ১০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। সেখানে মারা গেছে ২ শিশু। পটুয়াখালীতে মিলেছে দুই রোগী, উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ১২ জন।
বরিশাল জেলায় ২১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮ জনের দেহে হাম ও একজনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। সেখানে মারা গেছে একজন। আর সিটি করপোরেশন এলাকায় হামে আক্রান্ত ১৩ জন চিকিৎসাধীন।
হামের প্রাথমিক লক্ষণ জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হওয়া। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে- জানালেন শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (শেবাচিম) উপপরিচালক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এ কে এম নাজমুল আহসান।
শিশুর ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করাই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করেন তিনি। সংক্রমণ ও ঝুঁকি এড়াতে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিলেন ডা. নাজমুল।
শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়তে দেখে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ বেশ উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডলের। আগামীর সময়কে তিনি জানালেন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেয়া প্রস্তুতির কথা।
‘হাসপাতালগুলোতে আলাদা ওয়ার্ড চালু, নজরদারি জোরদারসহ একাধিক জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হতে পারে। অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা না পাওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে।’

