নাটোরে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানের চাল কেলেঙ্কারি!

ছবিঃ আগামীর সময়
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ২৪৭ জন হতদরিদ্র নারীর জন্য বরাদ্দ দেওয়া সরকারি চাল বিতরণ না করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় ৭.৪১ টন চাল উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের কথা থাকলেও তা না করে কালোবাজারে বিক্রি করেছেন চেয়ারম্যান।
সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভিজিডির ৭.৪১ টন চাল উত্তোলন করেন গোডাউন থেকে। সেই চাল উপকারভোগী হতদরিদ্র নারীদের মাঝে বিতরণ না করে বিক্রি করেন অন্যত্র। মার্চ মাসের ৩ ও ১১ তারিখে দুইবার চাল বিতরণ করা হয়েছে এমন উল্লেখ করে ভুয়া টিপসই ও স্বাক্ষর নেন চেয়ারম্যান। পরে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় কার্ডধারীরা চাল পাননি বলে স্বীকার করেন।
এদিকে চাল বিতরণের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ও মাস্টাররোল তৈরি করে উপজেলা নারী বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেন চেয়ারম্যান।
উপকারভোগী নারীরা আরও অভিযোগ করেন, বিনামূল্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার কথা বলে চেয়ারম্যান জন প্রতি ১০০০ করে মোট এক লাখ ৪৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার কথা বলে টাকা নিয়েও কাগজপত্র দেননি চেয়ারম্যান।
সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম ও হিসাব সহকারী পরিতোষ কুমার বলেছেন, মার্চ মাসের বরাদ্দ করা চাল বিতরণ হয়নি। এখন পর্যন্ত খোলা হয়নি কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। অসুস্থ থাকায় চাল পরে বিতরণ করবেন বলে জানান অভিযুক্ত চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন।
সিংড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোয়ারুল হাসান বলেছেন, চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ৫ মার্চ ভিজিডির ৭ দশমিক ৪১০ টন চাল ডিও করে উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন গোডাউন থেকে। তবে চাল নিয়েও বিতরণ না করার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে।
এ ঘটনায় কমিটি গঠন করে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে 'আগামীর সময়'কে জানিয়েছেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত।

