‘মৃত’ ঘোষণা সড়ক, হয়েছে প্রতীকী জানাজা

‘মৃত’ ঘোষণা সড়ক, হয়েছে প্রতীকী জানাজা
জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে ওঠেছে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে সাতমাথা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক। ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা এ সড়কের কারণে আশপাশের এলাকাগুলোতে ধস নেমেছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেখা যায়নি কার্যকর উদ্যোগ।
গতকাল শনিবার জাহাজ কোম্পানি শপিং কমপ্লেক্সের সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। এর আগে এলাকাবাসী প্রতীকী গায়েবানা জানাজার আয়োজন করেও জানিয়েছিলেন প্রতিবাদ। তবুও আসেনি কোনো পরিবর্তন।
অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বললেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, আর শুকনো মৌসুমে ভোগান্তি বাড়ে ধুলোর কারণে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটলেও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
বক্তারা আরও বলছিলেন, এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলার বহু মানুষ। প্রায় দেড় বছর ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা সড়কটি সংস্কারে বারবার দাবি জানানো হলেও তা হয়নি বাস্তবায়ন।
সমাবেশ থেকে দাবি জানানো হয় দ্রুত সড়কটি পুনঃনির্মাণের। অন্যথায় সিটি করপোরেশন ঘেরাও ও সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে তৈরি হয়েছে রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি। বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে এবং শুকনো সময়ে ধুলার ঝড় ওঠে, ফলে বছরজুড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের অভিযোগ, এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে শিকার হতে হচ্ছে দুর্ঘটনার। খারাপ সড়কের কারণে রোগীদের অবস্থা হয়ে পড়ে আরও খারাপ।
এদিকে সড়কের দুই পাশের ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন ক্ষতির মুখে। একদিকে যেমন দোকানে কমে গেছে ক্রেতা, পণ্য পরিবহনেও বাড়ছে দুর্ভোগ।
এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন জানাচ্ছিলেন, নগরীর বেশিরভাগ সড়কেরই অবস্থা খারাপ। সড়ক, নালা ও সেতু-কালভার্ট নির্মাণে প্রয়োজন বড় অঙ্কের অর্থ। এ সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প অপেক্ষায় রয়েছে অনুমোদনের। অনুমোদন পেলেই জাহাজ কোম্পানি মোড়-সাতমাথাসহ বেহাল সড়কগুলো সংস্কার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছিলেন তিনি।



