মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষে ব্যাপক ফলন, লাভবান কৃষকেরা

টাঙ্গাইলে মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষে ব্যাপক ফলন। ছবি: আগামীর সময়
টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শসার সমারোহ। হলুদ ফুলের ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে সবুজ রঙের শসা। মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে ঝুঁকছেন এখানকার কৃষকরা। আর এই পদ্ধতিতে শসা চাষে ব্যাপক ফলন হয়েছে এবার।
সরেজমিনে গিয়ে এ সব তথ্য জানা গেছে।
বেশি উৎপাদন ও দাম ভালো পেয়ে খুশি নাগরপুর উপজেলার চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শসা চাষে অধিক ফলন পেয়েছেন কৃষকেরা।
টাঙ্গাইলের কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে শসার চাষ হয়েছে জেলার ১২টি উপজেলার ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। যা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এই জেলার কৃষি উৎপাদনে।
টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, ধনবাড়ী, ঘাটাইল ও মধুপুরসহ প্রায় সব উপজেলাতেই শসার চাষ হচ্ছে ব্যাপক হারে। চলতি বছর বেশি চাষ হয়েছে আলভি-৩৫, কাশিন্দা ও বারোমাসি জাতের শসার।
সদর উপজেলার কৃষক ইব্রাহিম মন্ডল বলছেন, অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষে ঝুঁকছেন বেশিরভাগ কৃষক।
নাগরপুরের চাষি মালেক আনন্দ প্রকাশ করেন, ক্ষেত থেকে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা দরে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন শসা চাষে আগ্রহ বাড়ছে তরুণদের।
নাগরপুর উপজেলার কৃষি অফিসার এস এম রাশেদুল হাসান জানান, শসা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সার-বীজসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার শসা রাজধানী ঢাকাসহ সরবরাহ করা হচ্ছে আশপাশের জেলাগুলোতে।
উল্লেখ্য, মালচিং হলো ফসলের মাটির উপরিভাগ খড়, পাতা বা প্লাস্টিক শিট দিয়ে ঢেকে দেওয়ার আধুনিক কৃষি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে শসা চাষে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে, আগাছা কমে এবং ফলন ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়ে।



