‘সহকর্মীদের পরিকল্পনায়’ ইবি শিক্ষিকাকে হত্যা

সংগৃহীত ছবি
কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় ‘সহকর্মীদের পরিকল্পনা ও প্ররোচনার’অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন তার স্বামী। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় নিহত আসমা সাদিয়ার স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান এ মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমানকে।
এ ছাড়া মামলায় আসমার সহকর্মী সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান এবং উম্মুল মোমেনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ওই দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় কর্মচারী ফজলুর রহমান আসমা সাদিয়াকে হত্যা করেন।
এজাহারে বলা হয়, ২০১৮ সালে ফজলুর রহমান সমাজকল্যাণ বিভাগের তহবিল থেকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আসমা সাদিয়া বিভাগীয় সভাপতি হওয়ার পর বিভাগের আগের আয়-ব্যয়ের হিসাব তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস তাকে বিভিন্ন কাগজে শুধু স্বাক্ষর করতে বলেছিলেন। তবে আসমা সাদিয়া বিভাগের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার কথা বলেন এবং অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।
এর পর থেকেই আসমার সঙ্গে শ্যাম সুন্দর ও বিশ্বজিতের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব শুরু হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এজাহারে আরও বলা হয়, ফজলুরসহ তিনজন মিলে বিভাগের অর্থ আত্মসাৎ ও অপব্যবহার করতেন এবং আসমাকে বিভিন্নভাবে অসহযোগিতা ও হেনস্তা করতেন।
এক পর্যায়ে শিক্ষক হাবিবুর রহমানের সামনেই ফজলুর আসমাকে অপমানজনক ভাষায় গালাগাল ও অশালীন আচরণ করেন। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আসমা সাদিয়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন রোকসানা মিলিকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানান। পরে ডিনের নির্দেশে বিভাগে সভাও হয়। কয়েক মাস আগে বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সভাপতিকে অসহযোগিতার অভিযোগে ফজলুর রহমানকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষক হাবিবুর রহমান এবং ফজলুরকে পুনরায় সমাজকল্যাণ বিভাগে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও চ্যালেঞ্জ ছোড়েন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বিভাগের অর্থ তছরুপের অভিযোগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকেও বদলি করা হয়। এরপর থেকেই আসমাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার বিবরণে বলা হয়, দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার প্ররোচনা ও নির্দেশনায় ফজলুর ধারালো ছুরি নিয়ে আসমার অফিসকক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে তাকে হত্যা করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে অভিযোগের বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার বলেছেন, আমাদের এক সহকর্মী মারা গেছেন, এতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার সঙ্গে আমাদের এমন কোনো খারাপ সম্পর্ক ছিল না যে আমরা হত্যার নির্দেশদাতা হতে পারি। বিষয়টি তদন্তাধীন, সময়ের সঙ্গে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।
কুষ্টিয়া পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেছেন, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার ও আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে।
এর আগে বুধবার বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ দপ্তরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে আসমা সাদিয়া রুনা (৩৫) নিহত হন। একই সময় ওই কক্ষ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার আসমা সাদিয়ার মরদেহ কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

