ক্যাপসিকাম চাষে পরিবর্তনের গল্প, বীরগঞ্জে কৃষকের সফলতা

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর মোহনপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রউফ আধুনিক চাষাবাদে সফল হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নিজ এলাকায়। ধান ও গম চাষে আশানুরূপ লাভ না পাওয়ায় তিনি বিকল্প ফসল হিসেবে শুরু করেন ক্যাপসিকাম চাষ এবং পেয়েছেনও ভালো ফলন।
চলতি মৌসুমে মাত্র ২০ শতাংশ জমিতে ‘সুইট বিউটি’ জাতের ক্যাপসিকাম চাষ করে তিনি অর্জন করেন সফলতা। উৎপাদিত ক্যাপসিকাম ঢাকার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ভালো দামে। এতে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে এলাকায় অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও।
জানা গেছে, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ক্যাপসিকাম ভিটামিন সি, এ ও কে-তে ভরপুর একটি জনপ্রিয় সবজি। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, কমায় হৃদরোগের ঝুঁকি এবং সহায়তা করে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাপসাইসিন উপাদান হজমশক্তি বৃদ্ধি, ব্যথা উপশম এবং ত্বক ও চুলের যত্নে ভূমিকা রাখে।
শনিবার বিকেলে আব্দুর রউফের জমি পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা। এ সময় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন ক্যাপসিকামের ফলন দেখে এবং প্রশংসা করেন কৃষকের পরিশ্রমের।
কৃষক আব্দুর রউফ বলছিলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে শুরু করেন ক্যাপসিকাম চাষ। এতে সঠিক পরিচর্যার কারণে পাওয়া গেছে ভালো ফলন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম বললেন, কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক ফসল চাষে উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা। আব্দুর রউফের সফলতা অন্য কৃষকদের অনুপ্রাণিত করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, উচ্চমূল্যের ফসল চাষ সম্প্রসারণে ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাবে কৃষি বিভাগ।



